প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার কবর একই ধরনের করা হবে- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার কবর একই ধরনের করা হবে- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মানিকগঞ্জ টাইমস রিপোর্ট :

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার কবর একই ধরনের করা হবে। যাতে মানুষ বুঝতে পারে এটা মুক্তিযোদ্ধার কবর। আগামী ১৭ এপ্রিলের মধ্যে প্রত্যেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং সনদপত্র তুলে দেয়া হবে। প্রতিটি ডিজিটাল কার্ডে ৮ ধরনের বারকোড দেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেটা মেশিনের ধরা হলে জাতীয় সঙ্গীত, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, কিভাবে মুক্তিযোদ্ধারা প্রশিক্ষণ দিয়েছে অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধাদের যাবতীয় তথ্য থাকবে ওই ডিজিটাল কার্ডে। যাতে কেউ সহজে নকল করতে না পারে।

শনিবার (০৫ মার্চ) বিকালে মানিকগঞ্জ শহীদ তপন-মিরাজ স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, অচিরেই প্রত্যক্ষ ভোটে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন হবে এবং আপনারা প্রতিনিধির মাধ্যমে আপনাদের দাবি পেশ করতে পারবেন। প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার তালিকা আমাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে, যদি কারো নামে ভুল হয় তাহলে সংশোধন করে নিবেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়াকে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং তারেক জিয়াকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা বলেছেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া নয় মাস ক্যান্টনমেন্টে হেফাজতে ছিলেন। দুই শ্রেণির নারীরা ক্যান্টনমেন্টে ছিল। এক ধরনের নারীদের সেখানে জোর করে ধরে এনে অত্যাচার করা হয়েছে। আর কেউ কেউ স্বেচ্ছায় এসে পাক বাহিনীদের সঙ্গ দিয়েছে। ক্যান্টনমেন্টে ইফতেখার খান জানজুয়ার কেয়ারে ছিলেন বেগম খালেদা। জানজুয়া যখন মারা যান খালেদা জিয়া তখন প্রধানমন্ত্রী। সমস্ত প্রকার রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ভঙ্গ করে বেগম জিয়া পাকিস্তানি দূতাবাসে গিয়ে নিজ হাতে শোকবার্তা লিখেছেন। এর চেয়ে লজ্জা আর কলঙ্ক আর হতে পারে না।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন হয়ে গেলে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যেমে নাম দেওয়া হলে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার নামে রাস্তার নামকরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যারা জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করেছি। আমাদের জীবদ্দশায় এই দেশ আবার পরাজিত শক্তির হাতে চলে যাবে। সেটা হতে পারে না। আগামী নির্বাচনে মুক্তিযোদ্ধারা ব্যানগার্ড হয়ে কাজ করবে। যাতে এই সরকার ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা কায়েম করতে পারি।

ঢাকা পশ্চিমাঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের মিলন মেলার আয়োজক কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ খ ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ড. মোঃ এনামুল রহমান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাহজাহান খান, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্যকে এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান, মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, ঢাকা পশ্চিমাঞ্চল সহ জেলার আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।