মানিকগঞ্জে তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ লোডশেডিং আতংক

মানিকগঞ্জে তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ লোডশেডিং আতংক

মানিকগঞ্জ টাইমর্স রিপোর্ট

অব্যাহত তাপদাহে ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে স্থানীয় জনজীবন যেন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নারী-শিশু, বয়স্কদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত লোকজন এর মারাত্মক প্রভাবে ভুগছে। তাপদাহে ডায়রিয়া, জ¦র, সর্দি-কাঁশিসহ নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই হাসপাতাল, ক্লিনিকে ভর্তি ও চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ-পথ্য গ্রহণ করছে।

জানা গেছে, ১৯ জুলাই বুধবার থেকে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ রেশনিং কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে। অসহ্য গরমে জনজীবন যখন প্রায় ওষ্ঠাগত তখন বিদু্যুতের অনাকাঙ্খিত লোডশেডিং এ অবস্থা আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল কল-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক, জরুরী সেবাসহ নানা কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হওয়ার শংকা রয়েছে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা হলেও বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ঘটনায় পরীক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি বাড়বে এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পোল্ট্রি খামার ইত্যাদি কাজে মারাত্মক অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে এমন ধারণা করা হচ্ছে। ।

মানিকগঞ্জ পল্লী সমিতির আওতাভূক্ত সাত উপজেলায় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণে নানা গুরুত্বের ৯৫টি ফিডার লাইন রয়েছে। এ ফিডার লাইনের মাধ্যমে গোটা এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ রেশনিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রতি উপজেলায় গড়ে এক ডজন ফিডার লাইনের আওতায় এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দেয়া হবে।

মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. আব্দুর রশিদ মৃধা জানান, এ জেলায় ১৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এলাকার গুরুত্বভেদে লোডশেডিং দেয়া হবে।

এজিএম মাসুদুর রহমান জানান, শিবালয় উপজেলায় ৮৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বৈদ্যুতিক লাইন রয়েছে। এতে ৫০ হাজার ৪৮৬ জন গ্রাহকের মধ্যে আবাসিক ৪৩ হাজার ৪৪, বাণিজ্যিক ৫ হাজার ৮১৫, দাতব্য ৪৮৬, সেচ ৬৯৮, শিল্প-কারখানা ৩২৪ ও অন্যান্য ১১৯ জন গ্রাহক রয়েছে। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে গ্রীষ্মকালে ১৯ মেগাওয়াট ও শীতকালে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।