শিবালয়ে আঃ গণি সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

শিবালয়ে আঃ গণি সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

মানিকগঞ্জ টাইমস রিপোর্ট :

শিবালয় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী উপজেলা কেন্দ্রীয় আব্দুল গণি সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নগামী হচ্ছে এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউছুব আলীর বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, দুদক চেয়ারম্যান, মাউশি মহাপরিচালক, শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, করোনা ছুটির সময় সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধিকে সাথে নিয়ে ছুটির আবেদন করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ছুটি মঞ্জুর না করে বিদ্যালয়ের সভাপতির যোগ সাজসে বিধি বহির্র্ভূতভাবে তার বেতন-ভাতার সরকারী ও বিদ্যালয়ের অংশ স্থগিত করেন। রফিকুল ইসলাম তার প্রাপ্য বেতন-ভাতা চাইলে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ৩জন অভিভাবক সদস্যের মাধ্যমে ১ লক্ষ টাকা উৎকোচ দাবী করেন। সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম উক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলে প্রধান শিক্ষক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নানা কৌশল খুঁচতে থাকেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষকের আনীত অভিযোগ শিবালয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. গোলাম ফারুক এর ৩১ অক্টোবর ২০২১ তারিখের তদন্তে প্রমাণিত হয়।

এছাড়া, গত ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল রফিকুল ইসলাম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও প্রধান শিক্ষককে টাকা না দেয়ায় তাকে বাদ দিয়ে অন্য ৬জন শিক্ষকের নিকট থেকে ৯০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
বকেয়া বেতন-ভাতা ও উচ্চতর গ্রেডের জন্য প্রধান শিক্ষকের নিকট গেলে পূর্বের আক্রোশের জের ধরে রফিকুল ইসলামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ও জীবনে নাশের হুমকি দেন। ২১ জুলাই তারিখ ১ম কারণ দর্শনোর নোটিশ দেন এবং ২৯ জুলাই তাকে বিধি লঙ্ঘন করে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ দেন।

এছাড়া, উক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করার জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ১০ম শ্রেণিতে প্রধান শিক্ষকের গণিত ক্লাস থাকলেও তিনি নিয়মিত ক্লাস নেন না এবং গাইড বই সাথে নিয়ে ক্লাসে যান বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এ বছর মাত্র ৮-১০ ক্লাস নিয়েছেন। ছাত্র-অভিভাবকদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

রশিদ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বেতনসহ জরিমানা আদায়, নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্তি টাকা আদায়ের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের করা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। গত ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ শিবালয় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান ম-ল তদন্ত করেন। বিদ্যালয়ের সাবেক অভিভাবক সদস্য কাজী আব্দুল রাজ্জাক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ করেন যা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারের তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া, বিদ্যালয়ে দাতা ভোটার নিতে নিয়ম করেছেন বলে বিদ্যালয়ের সাবেক অভিভাবক সদস্য মো. আব্দুল হালিম মৃধা অভিযোগ করেন।