শিবালয়ে সিসিডিবি বায়োচার প্রকল্পের তথ্যচিত্র সংগ্রহে বিটিভি

শিবালয়ে সিসিডিবি বায়োচার প্রকল্পের তথ্যচিত্র সংগ্রহে বিটিভি

মোহাম্মদ ইউনুস আলী :

মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলায় স্থানীয় গৃহিণীদের দ্বারা উৎপাদিত বায়োচার ব্যবহার করে ফসল ও মাটিতে বায়োচারের কার্যকারিতা পরীক্ষণ করা হচ্ছে। নেদারল্যান্ড ভিত্তিক সাহায্য সংস্থা কার্ক ইন এক্টাই এর অর্থায়নে এবং সিসিডিবির বায়োচার প্রকল্পের সহযোগিতায় স্থানীয় উৎসাহী চাষিগণ হাতে কলমে এই পরীক্ষা করছেন। তাঁরই ফলস্বরুপ ১৬ জানুয়ারী শিবালয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) কর্তৃক সিসিডিবি’র শিবালয় উপজেলার বায়োচার প্রজেক্ট এর তথ্যচিত্র সংগ্রহ করা হয়।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান ”মাটি ও মানুষ” এর উপস্থাপক কৃষিবিদ দেওয়ান সিরাজের নেতৃত্বে তথ্যচিত্র সংগ্রহ করা হয়। এ সময় সিসিডিবি’র নির্বাহী পরিচালক জুলিয়েট কেয়া মালাকার, সিসিডিবি-সিপিআরপি প্রোগ্রামের হেড মিঃ জর্জ অসিত সিংহ, শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ জুবায়ের আহমেদ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিঃ অনুপম কুমার মৌলিক ও মোঃ আরিফুর রহমান ৪নং উলাইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আনিসুর রহমান, মেম্বার মিঃ সোহাগ সরকার (হল্কা), বায়োচার প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার মিঃ কৃষ্ণ কুমার সিংহ, মনিটরিং অফিসার এ্যাডলিনা রিচেল বৈদ্য, মার্কেটিং অফিসার মোঃ আবু সুফিয়ান, মার্কেটিং এ্যাসিসট্যান্ট মোঃ রাকিব হোসেন, কিচেন ফ্যাসিলিটেটর দিপালী সরকারসহ আরও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শিবালয় এলাকায় ২৫০জন গৃহিণী ‘কৃষি বন্ধু চুলা’য় রান্নার পাশাপাশি বায়োচার উৎপাদন ও বিক্রয় করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এবং ৫ শতাধিক কৃষক ও কৃষাণী উক্ত বায়োচার ব্যবহার করে অধিক ফলন ঘরে তুলছেন। ‘কৃষি বন্ধু চুলা’ সিসিডিবির একটি অনন্য আবিস্কার যা থেকে উৎপাদিত বায়োচার মাটি থেকে হারিয়ে যাওয়া জৈব শক্তি পুনরায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। বায়োচার হচ্ছে এক ধরনের চার বা কয়লা যাতে রয়েছে একাধিক গুনাবলী যেমন, বায়োচার মাটির জৈব গুনাগুন বৃদ্ধি করে মাটির উর্বরা শক্তি বাড়ায়, মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়, সারের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়, মাটির অ¤øত্ব দূর করতে সাহায্য করে, মাটিতে অবস্থানকারী বিভিন্ন অনুজীবকে সক্রিয় করে তোলে। বায়োচার মাটিতে শত শত বছর পর্যন্ত কাজ করতে সক্ষম। তথ্যচিত্র সংগ্রহকালে বিটিভি প্রতিনিধিদল আমডালা গ্রামের ‘কৃষি বন্ধু চুলা’ ব্যবহারকারী গৃহিণী সাবিনা বেগমের নিজ উদ্যোগে বায়োচার প্রয়োগকৃত খিরা ক্ষেত, সাবিনা, শাহানাজ, মনখুশি, চায়না, সবিতা, বীনা ও পার্বতীর বাড়ীতে বায়োচার তৈরীর নতুন প্রযুক্তি সিসিডিবি’র উদ্ভাবিত ”কৃষি বন্ধু চুলা” জ্বালিয়ে দেখা এবং বায়োচার বের করার পদ্ধতি, সংগৃহিত বায়োচার, সংরক্ষিত ”কৃষি বন্ধু চুলা”য় ব্যবহার উপযোগী খড়ি ও ওয়েস্টেজ কেক (গোবরের সাথে কাঠের গুড়া, ধানের কুড়া ও তুষ, খড়, কচুরীপানা, শুকনা পাতা ইত্যাদি) ”কৃষি বন্ধু চুলা” স্থাপন বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং গৃহিনীদের বাড়িতে বায়োচার ব্যবহৃত বিভিন্ন সবজি গাছ ও বায়োচার দিয়ে পানি বিশুদ্ধকরণ পদ্ধতি, ভাউয়ালকান্দি গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন এর বায়োচার ব্যবহৃত সরিষা ক্ষেত, আজিজুল হাকিম এর শুকনা বীজতলা (ব্রি-ধান ২৯), রজ্জব খাঁ ও বাহাদুর খাঁ এর পেঁয়াজ, আজমত আলীর রসুন ক্ষেত এর তথ্যচিত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় কৃষি কর্মকর্তা বলেন ‘কৃষি বন্ধু চুলায়’ রান্না করে নানাবিধ উপকার পাওয়া যায়। অতিরিক্ত বাই প্রোডাক্ট হিসেবে যে বায়োচার পাওয়া যায় তা বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। বায়োচার মাটিতে ব্যবহার করলে মাটির কার্বন বা জৈব উৎপাদান বৃদ্ধি পায়, লবনাক্ততা হ্রাস করে, পানি ধারন ক্ষমতা বাড়ে, রাসায়নিক সারের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয় ফলে কম সার ব্যবহার করেও আশানুরুপ ফসল পাওয়া যায়, পুষ্টি উৎপাদান ধরে রাখে, মাটির বিষাক্ত পদার্থ ফসলে আসতে দেয় না, মাটিতে অবস্থানকারী অনুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

বায়োচার ব্যবহার বৃদ্ধি জন্য সিসিডিবির কৃষি বন্ধু চুলা বাজারজাতকরণ খুব দরকার। কৃষি বন্ধু চুলার ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে বেশি বায়োচার উৎপাদন হবে ও তা কৃষি জমিতে ব্যবহার করা যাবে। বায়োচার ব্যবহার করে কৃষকগণ বেশী ফসল পাবেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। তিনি আরও বলেন- কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কোপ-২৬) এর প্রতিপাদ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা। বর্তমানে সারা বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা রোধে তৎপর রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে সিসিডিবি ‘কৃষি বন্ধু চুলা’ উদ্ভাবনের মাধ্যমে বায়োচার উৎপাদন করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এক্ষেত্রে বায়োচার হতে পারে আগামীর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার অন্যতম হাতিয়ার। এরপর তারা সিসিডিবি দশচিড়া, শিবালয় অফিসের অভ্যন্তরে বায়োচার গুড়া, বায়োচার সমৃদ্ধ জৈব সার প্রক্রিয়াকরণ, সংমিশ্রন এবং প্যাকিং পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিশেষে বিটিভি প্রতিনিধি দল সিসিডিবি’র নির্বাহী পরিচালকের সাক্ষাৎকার গ্রহনের মাধ্যমে অদ্যকার তথ্যচিত্র সংগ্রহের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।