শিবালয়ে হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের সমলয় চাষাবাদ কার্যক্রমের উদ্বোধন

শিবালয়ে হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের সমলয় চাষাবাদ কার্যক্রমের উদ্বোধন

মোহাম্মদ ইউনুস আলী :

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের সমলয় চাষাবাদ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ প্রধান অতিথি হিসেবে মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রামনগর মাঠে এ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

২০২১-২২ অর্থ বছরের রবি মৌসুমে প্রনোদনা কর্মসূচির আওয়াতায় ব্লক প্রদর্শনী স্থাপনের মাধ্যমে হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের সমলয় চাষাবাদ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদুর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন এবং পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনুপম কুমার মৌলিক।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিবালয় উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রিয়াজুর রহমান।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি উপ-পরিচালক আবু মোঃ এনায়েত উল্লাহ, শিবালয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল ইসলাম, শিবালয় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান একেএম মিরাজ হোসেন লালন ফকির, রামনগর আইপিএম কৃষি উন্নয়ন কøাব সভাপতি আব্দুল গফুর অন্যান্যে মধ্যে বক্তব্য রাখেন।

রামনগর আইপিএম কৃষি উন্নয়ন কøাব সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, “এ ক্লাব বাংলাদেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি বড় সংগঠন। এ ক্লাবের সদস্য ৭৫০ জন। সরকারী ভর্তুকিমূল্যে এ বছর একটি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার কেনা হয়েছে। যার ব্যবহারে এ এলাকার কৃষকগণ উপকৃত হবে। উৎপাদন ব্যয় কমবে। ট্রেতে চারা তৈরি করে এ যন্ত্রের মাধ্যমে সমলয়ে ধান রোপন করা হলে একই সময়ে ধান কর্তন করা যাবে। এতে ধানের উৎপাদন বাড়বে।”

সহকারী কমিশনার ভূমি বলেন মাহবুবুল ইসলাম, “বিশ^ব্যাংককে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে বাংলাদের প্রধান মন্ত্রী কৃষিতে ভর্তুকি বন্ধ করেননি। বিখ্যাত চিত্র শিল্পী এসএম সুলতান ছবি আঁকার সময় কৃষকদের ছবি মোটা ও বড় করে আঁকতেন। তিনি হয়তো বোঝাতে চাইতেন কৃষক ভালো থাকলে বেশি বেশি ফসল উৎপাদন করলে সকল মানুষই ভালো থাকবেন। তিনি কৃষিকদের সম্মানে তাদের ছবি বড় করে আঁকতেন।”

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান একেএম মিরাজ হোসেন লালন বলেন, “কৃষিবান্ধব এ সরকার কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। ভর্তুকিমূল্যে কৃষকদের আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে এবং তার ব্যবহার নিশ্চিতে প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। যাতে করে কৃষক নিজে উপকৃত হতে পরেন এবং দেশের জন্য কাজ করতে পারেন।”

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি উপ-পরিচালক আবু মোঃ এনায়েত উল্লাহ বলেন, “দেশে ৩৫৪ কোটি মে. টন চালের চাহিদা মিটিয়ে গতবছর ২০ লক্ষ টন চাল উদ্বৃত্ত হয়েছে। সরকারী পরিকল্পনা ও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। মানিকঞ্জে ২ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা প্রনোদনা দিয়েছে বিভিন্ন ফসলের উপরে। কৃষক লাভবান না হলে তারা কৃষি কাজে আগ্রহ হারাবে। কৃষক যেন সামান্য লাভের আশার জমির ‘টপ সয়েল’ ইট ভাটায় বিক্রি করে না দেয়। তাহলে জমির ফসল কমে যাবে।”

প্রধান অতিথি মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, “সকল খরচ বাদে যদি কৃষকের লাভ না থাকে তাহলে তারা ফসল উৎপাদন করবে কেন। তাদের লাভবান হওয়ার পরিবেশ সরকার তৈরি করে দিচ্ছে। সরকারীভাবে তাদের জন্য ভর্তুকিমুল্যে সার ও যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কৃষক ১ কেজি সার কৃষক পাচ্ছে মাত্র ১৭ টাকায় অথচ সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৭০ টাকা। কৃষি যন্ত্রের উপর ৫০ থেকে ৭০ ভাগ সরকার ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। এ সহযোগিতা নিয়ে যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার করে এ সুফল গ্রহণ করতে হবে। সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদ করে জমির আইল উঠিয়ে দিলে কৃষক উপকৃত হবেন।”

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদুর রহমান বলেন, “কৃষি কাজে যে কোন সহযোগিতায় উপজেলায় যোগাযোগ করলে তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।”

পরে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্যরা রানগর মাঠে রাইস ট্রান্সপ্যান্টারে ধানের চারা রোপন পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় কৃষকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।