ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ করতে আরিচা ও পাটুরিয়ায় ব্যাপক প্রস্ততি

শহিদুল ইসলাম !
আর কয়েক দিন পরই ঈদ ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভীড় হবে দেশের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার বলে খ্যাত স্পর্শকাতর আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে। যাত্রী দুর্ভোগ লাগবে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে থাকবে ছোট-বড় ১৯টি ফেরি ও ৩৩টি লঞ্চ। যাত্রীবাহী পরিবহণের সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ায় ঈদের আগে-পরে ৬ দিন এ রুটে পণ্যবাহী ট্রাক-লড়ি পারাপার বন্ধ থাকবে। এছাড়া, আরিচা-কাজিরহাট রুটে যাত্রী পারাপার সহজতর করার লক্ষ্যে চলাচল করবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লঞ্চ ও স্পিডবোট দাবি সংশ্লিষ্ট বিভাগের।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুছ সাহাদত সেলিম ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘœ করতে ফেরি-লঞ্চ, স্পিডবোট ও পরিবাহন মালিক-শ্রমিক, আইন শৃংখলা বাহিনীর উর্দ্ধত্মন কর্মকর্তাসহ ঘাট সংশ্লিষ্টদের সাথে গতকাল শনিবার সকালে পাটুরিয়া ঘাটে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষ ‘মোহনায়’ এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের পরিকল্পনানুযায়ী ফেরি-লঞ্চ ঘাটসহ টারমিনাল এলাকায় আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধ, গাড়ি পার্কিং ও সিরিয়াল ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ, পুলিশ টহল, সড়ক ও নৌপথে পরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী ও ভাড়া আদায় রোধ, সরকারী সিদ্ধান্তনুযায়ী মহাসড়কে নসিমন-করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক, মাহিন্দ্র এবং নৌপথে রাতের বেলায় পণ্যবাহী জাহাজ, বালুবাহী বাল্কহেড ইত্যাদি চলাচল বন্ধ, অপেক্ষামান যাত্রীদের রাতের বেলায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক অস্থায়ী শৌচাগার স্থাপনসহ ঘাট এলাকায় সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এদিকে, বিআইডব্লিউটিসি ফেরি কর্তৃপক্ষের সাথে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের কথা হলে তারা জানিয়েছেন, ঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে এরুটে ছোট-বড় ১৭টি ফেরি যানবাহন পারাপার কাজে নিয়োজিত থাকলেও ঈদের আগেই বহরে আরোও দু’টি ফেরি যোগ হবে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে এরুটে ঘরমুখো যাত্রীরা স্বস্থিতে যাতায়াত করতে পারবে।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানিয়েছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজীরহাট রুটে ৩৫টি লঞ্চের মধ্যে এমভি মোস্তফা এবং এমএল হিরক নামের দু’টি লঞ্চের সার্ভে রেজিস্টেশন ও ফিটনেস সার্টিফিকেট না থাকায় বাকিগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করবে। এছাড়া, লঞ্চে যাত্রী উঠা-নামায় উভয় ঘাটের পন্টুনগুলো সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভা শেষে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে ভ্রাম্যমান আদালত, র‌্যাব-পুলিশ, আনসার বাহিনীসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর অতিরিক্ত লোকবল নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া, পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে কন্ট্রোল রুম ‘মোহনায়’ একটি ভ্রাম্যমান মেডিক্যাল ক্যাম্প ও যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কাজ করবে ভ্রাম্যমান আদালত।
মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানিয়েছেন, মহাসড়কসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকা অপরাধ দমনে আগামী ১২ জুন থেকে আইন শৃংখলা বাহিনীর ৫ শতাধিক সদস্য কাজ করবে। মলম ও অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম রোধে ফেরি-লঞ্চ ও ঘাট এলাকা হকার মুক্ত রাখা হবে। এ রুটে যাত্রীসাধারনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাট এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।