কৃতজ্ঞা স্বীকার ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন

মানিকগঞ্জ টাইম্স রিপোর্ট ॥
করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ শিবালয় উপজেলার ৪৬টি কেজি স্কুলের ৫শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য ঈদ উপহার প্রধান করায় আমি মোহাম্মদ ইউনুস আলী, উথলী শিক্ষানিলয় প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ ও শিবালয় উপজেলা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে সাবেক শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ আলী আকবরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সকলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
করোনার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মালিক-শিক্ষক-কর্মচারী কর্ম ও উপার্জনহীণ হয়ে পরে। স্কুল বন্ধের বিষয়ে সরকারী বিভিন্ন ঘোষনা শুনে মালিক-শিক্ষক-কর্মচারীগণ আমাকে ফোন ও এসএসএম করে সকলের জন্য ঈদের আগে কিছু কারার জন্য। এছাড়া, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, সদস্য রণজিৎ কুমার সরকার. মো. শুকচাঁন খান সৈকতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি জানায় অনেকেই।
করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ মালিক-শিক্ষক-কর্মচারীগণের কথা চিন্তা করে আমি, সংগঠনের সাধারণ সম্পাক, কোষাধ্যক্ষসহ ৫/৬ জন মিলে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে ঐ অফিসে উপস্থিত থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মো. জাকির হোসেন স্যারকে আমাদের দুঃখের কথা বলি। তিনি আমাদের জানান, শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের এখন কোন চিন্তা নেই। তিনি আরও জানান, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা ও দরিদ্র মানুষদের মানবিক সহায়তা নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে জানান, তাহলে আমরা এখন কীভাবে বাঁচব? আমাদের ঘরের তো খাবার নেই। উত্তরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয় জানান, কৃষি কাজ করবেন। মনির হোসেন আবার জিজ্ঞাসা করেন আমরা জমি পাবো কোথায়? সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয় জানান বর্গা নিবেন। এভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের নিকট থেকে নিরাশ হয়ে ফিরে আসতে হয়।
অতপর শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা ও আ’লীগ সভাপতি জনাব মো. রেজাউর রহমান খান সাহেবকে ফোন দিয়ে ৩দিন পরের সিডিউল নিয়ে দেখা করতে গেলে তিনি জানান, মানবিক সাহায্য ১০ কেজি চাল ছাড়া অন্য কোন সাহায্য দেয়া এখন সম্ভব নয়। তিনি জানান, চাল দেয়ার জন্য শিক্ষকের নাম, ভোটার আইডির ফটোকপি জমা দিলে যাচাই বাছাই করে চাল দেয়া হবে। এভাবে উপজেলা প্রশাসন থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হয় আমাদের সকলকেই।
এক পর্যায়ে আমরা সংগঠনের কয়েকজন সদস্য ব্যক্তিগত দাতা খোঁজার সিদ্ধান্ত নিয়ে যার যার মত বাড়ি চলে যাই।
অবশেষে শিবালয় উপজেলার সাবেক উপজেলার চেয়ারম্যান অত্যান্ত বিনয়ী, শিক্ষানুরাগী ও দয়ালু জনাব মোহাম্মদ আলী আকবর সাহেবকে আমি ফোন দিয়ে আমাদের কষ্টের কথা বলি। তিনি আমার কথা শুনে বলে আমি ভাই হিসেবে আপনার পাশে আছি। পরের শুক্রবার উনার সাথে দেখা করতে গিয়ে দেখি সংগঠনের সদস্য শুকচাঁন খান সৈকত সেখানে বসা। জনাব মোহাম্মদ আলী আকবর সাহেব আমার কাছে উপজেলা কিন্ডারগার্টেন ( কেজি) স্কুলের সংখ্যা জানতে চায়। আমি তাঁকে জানাই এ উপজেলা ৪৬টি কেজি স্কুল আছে যার মধ্যে প্রায় ৪৬০ শিক্ষক আছেন। তিনি তখন বলেন আপনাদের স্কুলে কর্মচারী নাই। আমি বললাম আছে। তিনি তখন বললেন তাদেরকেউ তালিকায় আনবেন। আমি অত্যন্ত খুশি হয়ে অল্প সময়ে ৫শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকা প্রস্তুত করে জমা দেই।
শুধুমাত্র আমার মতো একজন নগন্য শিক্ষকের আবদারে ৫শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবারের জন্য ঈদ উপহারের ব্যবস্থা করলেন মাত্রা ৭ দিনের মধ্যে এবং আমার নিকট সকল শিক্ষক-কর্মবচারীদের উপহার বুঝিয়ে দিলেন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে। উপহার গ্রহণ করার সময় গর্ভে মন ভরে উঠেছে।
জনাব মোহাম্মদ আলী আকবর সাহেবের ভাই জনাব আলী আজগর, মামা গোলাম মোস্তফা, সহকারী মুস্তাকিন বিল্লাহ টিল, ট্রাক ও হ্যালোবাইক চালকসহ অন্যান্যদের সহযোগিতায় সকলকে ঈদ উপহার পৌঁছে দেয়া হয়।
তাই কৃতজ্ঞ চিত্তে ব্যক্তিগত ও সংগঠনের পক্ষ থেকে জনাব মোহাম্মদ আলী আকবরসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।