ঘিওরে আ’লীগ নেতার হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্চিত

শহিদুল ইসলাম !
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার শ্রীবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচন কেন্দ্র করে গতকাল রোববার সকালে স্থানীয় আ’লীগ নেতাদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন প্রধান শিক্ষকসহ অত্র বিদ্যালয়ের দপ্তরী। প্রতিবাদে ক্লাশ বর্জন করেছে শিক্ষকরা। শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষনা দিয়েছেন শিক্ষক সমিতি নেতৃবৃন্দ।

প্রধান শিক্ষক নাসিমা খানম সাংবাদিকদের জানান, স্কুল পরিচালনার জন্য সম্প্রতি নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করা হলে ৪ জন অভিভাবক সদস্য মনোনীত হন। আবুল বাশার নামের বিদ্যৎসাহী সদস্য অভিভাবক সদস্য বিধি সম্মত হয়নি বলে শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেন।

উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনা তদন্তের জন্য অভিযোগকারীসহ অন্যান্যদের তার কার্যালয়ে ডাকেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন আ’লীগ নেতা আবুল বাশার, রওশন, শামীম, আব্দুল হাই ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের লোক স্কুলে ঢুকে প্রধান শিক্ষক নাসিমা খানমকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। দপ্তরী হাফিজ এর প্রতিবাদ জানালে তাকেও মারধর করা হয়।

প্রধান শিক্ষক টেলিফোনে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানালে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছন বলে জানা গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্ততি চলছিল।

আবুল হাসেম নামে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, বিদ্যুৎসাহী সদস্য আ’লীগ নেতা আবুল বাশারকে ক্ষমতার দাপটে স্কুল কমিটির সভাপতি বানানোর জন্য এমন হামলা করা হয়েছে। তাদের অপতৎপরতায় ইতোমধ্যে দু’দফা নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তৃতীয় দফা তফসিল অনুযায়ী গত ১০ মে মনোনয়নপত্র দাখিল ও আগামী ১৫ মে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করাহলেও বাশার তার কিছুই না করে তার দলবাল নিয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে নামে।

প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত ও দপ্তরীকে মারধরের বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্তরা উল্টো প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরী তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছে।
সহকারী শিক্ষক সমিতি নেতা আবুল হোসেন জানান, শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি না হলে কঠোর আন্দোলন ডাকা হবে।