তেওতা জমিদার বাড়ির সংস্কার জরুরী

মোঃ নাজিরুল ইসলাম নাজির  
মানিকগঞ্জের শিবালয়ের তেওতা জমিদার বাড়িটি ছিল দুই সহোদর ভ্রাতা হেমশংকর রায় চৌধুরী ও জয় শংকর রায় চৌধুরী পিং-এর নিজ বসতবাড়ী। দুই ভ্রাতার পরিবার তেওতা অবস্থান করে তাদের জমিদারি পরিচালনা করতেন। বাড়িটি উত্তরে এবং দক্ষিন-পশ্চিম কোনে দু’টি পুকুর, পুকুরের পূর্ব পাশ দিয়ে পাকা রাস্তা চলমান রয়েছে। দালানের ভিতরে দুটি মন্দির ও একটি মঠ আছে যা ‘‘নবরতœ’’ নামে পরিচিত।
১৯৪৭ সনে ভারত বিভক্তির প্রাক্কালে জমিদারগণ বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতের কলিকাতা গমন করেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। জমিদারগণ চলে যাবার পর তাদের নামীয় সম্পত্তি বংলাদেশ সরকারের অনুকূলে রেকর্ডভূক্ত হয়।
সংস্কারের অভাবে বাড়িটির এখন বেহাল দশা। দেখলে মনে হয় দুষ্টু লোকের আড্ডা, গরু-ছাগলের অভায়ারণ্যে আর অবৈধ দখলের হিড়িক। মোট ৫৫ টি কক্ষ এখন জরাজীর্ন অবস্থায় আছে। ভেতরে ঢুকলে মনে হয় প্রত্যেকটি কক্ষই জীব-জন্তু আর লতাপাতার বসবাস। যেটি বেশ ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে এখানে ৫৬ টি নদীভাঙ্গা পরিবার অবৈধভাবে বসবাস করছে।
এমতবস্থায় পুরো বাড়িটি সংস্কারের জন্য জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। আশু সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহন না করলে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহি পুরাকৃর্তি হিসেবে খ্যাত তেওতা জমিদার বাড়ি অচিরেই বিলীন হবে এমনটাই ধারনা স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের।