পদ্মা-যমুনায় ইলিশ রক্ষা অভিযান ২২৭ জন দন্ডিত

শহিদুল ইসলাম !
সরকারী ঘোষণা অমান্য করে পদ্মা-যমুনায় ইলিশ শিকারের দায়ে গতকাল শুক্রবার আরোও ২০ জেলেকে আটক করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে এ যাবৎ ২২৭ শিকারী আটক ও ১৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। আটককৃত শিকারীদের মধ্যে ১১৩ জনের এক বছর করে জেল ও ১১৪ জনকে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। শিবালয় ইউএনও কামাল মোহাম্মদ রাশেদের ভ্রাম্যমান আদালতে এ রায় দেয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন, থানা ও নৌ পুলিশের এ অভিযান ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা-যমুনা বক্ষে অন্তত দেড়শ’ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় মা’ ইলিশ বিচরণের ক্ষেত্র রয়েছে। একশ্রেণির মওসুমী শিকারী ইলিশ ধরা আইন অমান্য করে নদীতে জাল ফেলছে। এদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিলেও অনেকেই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ইতোমধ্যে, নদী বক্ষে পরিচালিত অভিযানে আটক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কিছু আতœীয়-স্বজনের নাম প্রকাশ পেয়েছে।

অভিজ্ঞ মহল জানান, জাল ও মাছ শিকারী আটকের পাশাপাশি এ কাজে ব্যবহৃত নৌকা আটক ও স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে সচেতনাতামূলক সভা করলে বেশি ফল পাওয়া যাবে।

পাটুরিয়া নৌ-পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনূল ইসলাম জানান, অভিযান সফল করতে স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। অভিযানে আটককৃতদের ভ্রাম্যান আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেয়া হচ্ছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রফিকুল আলম জানান, চলতি অভিযানে আটক প্রায় ১৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে ইলিশ মজুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে একটি বরফকল জব্দ করা হয়। জেলেদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ইলিশ স্থানীয় এতিমখানা-মাদ্রাসা, মন্দির, গীর্জাসহ দরিদ্র লোকজনকে দেয়া হয়।

শিবালয় ইউএনও কামাল মোহাম্মদ রাশেদ জানান, সরকার ঘোষিত সময়ে ইলিশ নিধনের অভিযোগে আটককৃতদের কারা ও অর্থ দন্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার আটক ২০ জনের মধ্যে ৬ জনকে একবছর করে কারাদন্ড ও বাকী ১৪ জনকে অর্থদন্ড করা হয়েছে। অভিযান আগামী ২২ অক্টেবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।