পাটুরিয়ায় যাত্রী চাপ বৃদ্ধি ফেরিতে যান পারে ধীরগতি

শহিদুল ইসলাম ॥
শুক্রবার সন্ধার আকাশে চাঁদ দেখা গেলেই শনিবার পবিত্র ঈদ। ঈদ আনন্দ ও নারীর টানে ঘরে ফেরা মানুষের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে পাটুরিয়া-আরিচা নৌ পথের ফেরি-লঞ্চে। কাল বৈশাখী মওসুম চলায় ঘরমুখী যাত্রীরা লঞ্চের পাশাপাশি ফেরিতে পদ্মা পারি জমাচ্ছে স্বছন্দে। ফেরিতে যাত্রী চাপ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিক যানবাহন পারে বিঘœ ঘটছে। ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি রোধে ঈদের আগে-পরে ৬দিন এরুটের ফেরিতে পন্যবাহী ট্রাক-লড়ি পারাপার বন্ধ রয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফেরি-লঞ্চ ঘাটের পরিস্থিতি মনিটরিং করতে স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে ঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি ও নদী পথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন নৌ-পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান, ফেরি সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান মফিজুল হকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, ঈদে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তির বিষয় বিবেচনায় এনে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বহরের ছোট-বড় ১৭টি ফেরির সাথে বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান, খানজাহান আলী ও সন্ধা মালুতী নামে ৩টি ফেরি যোগ হয়ে মোট ২০টি ফেরি যোগে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হচ্ছে।
এছাড়া, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজীরহাট রুটে ৩৩টি লঞ্চসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্পিডবোটে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। ঘাট এলাকায় যাত্রীসাধারনের নিরাপত্তা ও মহাসড়কে যানজট এড়াতে আইনশৃংখলা বাহিনীর ৫ শতাধিক সদস্য কাজ করেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সরজমিন পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন পরিবহন যোগে আসা যাত্রীরা ফেরি-লঞ্চ, স্পিডবোট ও ইঞ্জিন চালিত নৌকাযোগে নদী পার হচ্ছে। দুপুরে পরিবহনের অভাবে কয়েকটি ফেরি অলস ঘাটেই অপেক্ষায় ছিল। তবে, ফেরি পারের জন্য বিকল্প পথে আসা প্রাইভেটকার,জীপ ও মাইক্রো বাসের সিরিয়াল ছিল চোখে পড়ার মতে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল-সন্ধায় এরুটে পরিবহনের পাশাপশি যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ইফতার শেষে বাঁধভাঙ্গা জোয়ারে মতো ছুটে চলে যাত্রীরা। কলবৈশাখী মওসুম হওয়ায় লঞ্চের পাশাপাশি ফেরিতে যাত্রীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যানবাহন পারাপারে বিঘœ ঘটছে বলে ফেরি কর্তৃপক্ষ এমনটা মন্তব্য করছে।
এদিকে, আরিচা-কাজিরহাট রুটে স্পিডবোট যোগে যাত্রী পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে বলে সুত্র জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে মহাসড়ক ও ঘাট এলাকায় যাত্রী দুর্ভোগ লাগবসহ অপরাধ দমনে প্রশাসনের আগাম প্রস্ততি থাকায় যাত্রীরা স্বস্থিবোধ করলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ হিমসিম খাচ্ছে।