পাটুরিয়া ও আরিচায় ঈদ ফেরৎ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

শহিদুল ইসলাম !
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটযোগে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে স্থানীয় প্রশাসনের নানামুখী উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করলেও ফিরতি পথে এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও পাবনার কাজিরহাট থেকে ফেরি-লঞ্চ, স্পিটবোটসহ ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে কর্মমুখী মানুষ পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে পৌছে গন্তব্যে যাত্রায় নানা হয়রানির শিকার হয়। বাস-কোচ খোলা ট্রাক ও পিকআপে গন্তব্যে রওয়ানা দিতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। গতকাল শুক্রবার এ দু’ঘাটে কর্মমুখী মানুষের ছিল উপচে পড়া ভীড়। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে- এ সকল অনিয়ম দেখার যেন কেউ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘অজ্ঞাত’ কারনে নিশ্চুপ থাকায় ভুক্তভোগী যাত্রীসাধারনেরা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
শুক্রবার পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে সরজমিনে দেখা গেছে, ঈদ ফেরৎ কর্মমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড়। এদের মধ্যে নারী-শিশুরা অবর্ননীয় ভোগান্তির শিকার হয়। ঘাটে পর্যাপ্ত পরিবহন থাকলেও ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষার পর উচ্চ ভাড়ায় গন্তব্যে রওয়ানা দিচ্ছে যাত্রীরা। এক শ্রেণির মালিক-শ্রমিকরা পুলিশ ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সহায়তায় পরিবহন সংকট দেখিয়ে স্বাভাবিক সময়ের চাইতে কয়েক গুন বেশি ভাড়ায় গাড়িতে যাত্রী তুলে দিচ্ছে। আরিচা-কাজীরহাট রুটে লঞ্চে স্বাভাবিক সময়ে যাত্রী প্রতি ৫৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ থাকলেও বর্তমানে তা একশ’ টাকা হারে আদায় করা হচ্ছে।
এছাড়া, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে যানবাহন পারাপারের জন্য ছোট-বড় ২১টি ফেরির মধ্যে দুটি বিকল থাকায় ১৯টিযোগে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এরুটে ২৩টি লঞ্চ ও আরিচা-কাজিরহাট রুটে আরোও ১০টি লঞ্চযোগে যাত্রী পারাপার হলেও দৌলতদিয়া প্রান্তে যাত্রী ও পন্যবাহী শত’শত পরিবহন পারের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। সব মিলিয়ে ঘাট এলাকায় স্থায়ী যানজটের সৃস্টি হয়েছে।
এদিকে, ফেরিতে দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়ায় পার হয়ে আসা যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেন ফেরির ক্যান্টিন গুলোতে বাসি-পচা খাবার বিক্রি হচ্ছে। দাম ও আদায় হচ্ছে তাদের ইচ্ছা মাফিক। ফেরির ভিতরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে শৌচাগার ও শৌচপাত্রের অভাবে অস্বস্তিতে পড়েছেন অনেকেই। ভিতরে শৌচপাত্র না থাকায় বাধ্য হয়ে পানির বোতল কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফেরিতে বিশেষ কয়েকটি শৌচাগার তালাবদ্ধ থাকায় বিশেষ করে নারী-শিশুরা বেশি দুর্ভোগ পোহায়। এ বিষয়ে ফেরি কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, সংস্থার প্রতিটি ফেরিতে যাত্রীসাধারণের জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট রয়েছে। তাতে প্রয়োজনীয় পানি ও শৌচপাত্র সরবরাহ করা হয়েছে।
অপর দিকে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন বাস মালিক-শ্রমিকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ মানতে নারাজ। তারা বলেন, আমরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত একটি পয়সাও বেশি নিচ্ছি না। বছরের অন্যান্য সময়ে যাত্রীদের কাছ থেকে যে ভাড়া আদায় হয় তা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অর্ধেকেরও কম। নিয়ম মেনে ভাড়া আদায় করায় যাত্রীরা এমন অভিযোগ তুলছেন বলে এরা উল্টো অভিযোগ তোলেন।
নাম না প্রকাশ না করার শর্তে পরিবহনের কয়েক মালিক জানান, পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে যানবাহন নিয়ন্ত্রনের নামে ক্ষমতাশীন দলের স্থানীয় নামধারী কতিপয় ব্যক্তিরা মালিক সমিতির নামে পরিবহন থেকে জোড়পূর্বক চাঁদা আদায় করছে। অথচ, এদের নামে বা মালিকানায় একটিও গাড়ী নাই। ইতি পূর্বে এদের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করা হলেও কোন ফলদয় হয়নি।
বাস চালকরা অভিযোগ তুলেন, কতিপয় মালিকরা প্রশাসনের সহায়তায় প্রতি ট্রিপে ৫শ’ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আমাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে। এ খরচ পুঁশিয়ে নেয়ার জন্যই যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নৌ-নিট্রা বিভাগের সহকারী পরিচালক ফরিদুল ইসলাম জানান, দৌলদিয়া-পাটুরিয়া রুটে সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় হলেও আরিচা-কাজিরহাট রুটে এর কিছুটা ব্যত্যয় ঘটছে। লঞ্চ মালিকরা স্থানীয় ও প্রভাবশালী হওয়ায় এরা কাউকে তোয়াক্কা করেন না। তবে, আপনারা এ বিষয়ে লঞ্চ মালিকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
লঞ্চ মালিকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঈদের আগে-পরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করার জন্য টিকিটের সাথে অতিরিক্ত সামান্য কিছু আদায় হচ্ছে।
ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পরে যানবাহনের তুলনায় এরুটে যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাময়িক এ নাজুক পরিস্থিতির সৃস্টি হয়েছে। এছাড়া, ঈদের আগে যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তায় উভয় ঘাট এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত, পুলিশ, র‌্যাব-আমর্ড পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, মেডিক্যাল টিমসহ আইনশৃংখলা বাহিনী নিযুক্ত থাকলেও বর্তমানে তা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।