প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিজি প্রেসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নজরদারিতে

শহিদুল ইসলাম !
প্রশ্নপত্র ফাঁস বর্তমান জাতীয় জীবনে বিভীষিকার নাম। জাতির ভবিষ্যতকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে অর্থ-স্বার্থন্বেষী একটি চক্র প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো এক ঘৃণ্য কর্মকান্ডে জড়িত। আইন শৃংখলা বাহিনীর তথ্যনুযায়ী এমন ঘৃণ্য কাজের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে বিজি প্রেসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ কারণেই তাদের রাখা হয়েছে বাড়তি নজরদারিতে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বিজি প্রেসে যাওয়ার আগে প্রস্তত করা হয় ৬৪ সেট প্রশ্নপত্র। এর মধ্য থেকে বাছাই করা হয় ৩২ সেট। প্রিন্ট করা হয় ৮সেট। যেহেতু প্রিন্ট করা ৮ সেট প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে সে মোতাবেক সন্দেহের তীর বিজি প্রেসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিকেই ঝুঁকে। এছাড়া, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রগুলো পরীক্ষার আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে। বিজি প্রেস ছাড়া অন্য কোথাও থেকে পরীক্ষার আগের দিন-রাতে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার সুযোগ নেই।
২০১৬ সালে জুন মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সাথে জড়িত সরকারী মুদ্রাণালয়ের মূদ্রণ শাখার দু’কর্মচারীকে শনাক্ত করে আইন শৃংখলা বাহিনী। পরীক্ষার দু’দিন আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিল তারা। এর পর থেকেই আইন শৃংখলা বাহিনীর নজরদারী বৃদ্ধি করা হলেও কমেনি অসাধু চক্রের দৌরাত্ম। এ চক্র অভিনব কায়দায় গেঞ্জির উল্টো পিঠে প্রশ্নপত্র প্রিন্ট করে বাহিরে এসে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিচ্ছে বলেও তথ্যনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে। এ সব কারণেই বিজি প্রেসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার।
ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এহেন অপকর্মে বিজি প্রেস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তা করছে দেশ বিরোধী একটি চক্র। আইন শৃংখলা বাহিনীর নজরদারীতে এ চক্রের মূলহোতারা বেড়িয়ে আসলেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের স্থায়ী সমাধান হবে এমনটাই মন্তব্য করেছেন সুধী সমাজ।