শিবালয়ের উথলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে স্বাক্ষাৎকার-১

মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয়ের উথলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন গত ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি ৫ বছর অন্তর অন্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসেবে আগামী নির্বাচন হতে পারে ২০২১ সালে মার্চ এপ্রিলে অর্থাৎ মাত্রা ৯ থেকে ১০ মাস সময় বাকী নির্বাচনের। এ নির্বাচন নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে অনেক আগে হতেই। পুরাতন প্রার্থীদের সাথে সাথে নতুন কয়েকজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে লোকমুখে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সম্ভাব্য নতুন প্রার্থী নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন অন লাইন পত্রিকা মানিকগঞ্জ টাইম্স প্রতিনিধি মো. শেখ নজরুল ইসলাম। গৃহীত সাক্ষাৎকারটি হুবহু আপনাদের জন্য তুলে ধরা হলো।

মানিকঞ্জ টাইম্স : লোকমুখে শোনা যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আপনি কি একজন সম্ভাব্য প্রার্থী? আপনি কি কোনো দলের সমর্থিত প্রার্থী হবেন, নাকি সতন্ত্র প্রার্থী? দলীয় সমর্থন না পেলে আপনি নির্বাচন করবেন কি?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম: হ্যাঁ। আল্লাহপাক হায়াত দারাজ করলে আমি আগামীতে ২নং উথলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চাই ইনশাআল্লাহ। আমি আমার প্রাণ প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হতে চাই। দলীয় সমর্থন না পেল আমি নির্বাচন করব না। দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমি তার হয়ে কাজ করব।
আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মতাদর্শে বিশ^াস করি। শহিদ জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিএনপি করি। আমি কোন প্রতিহিংসামূলক রাজনীতিতে বিশ^াস করি না। সবারই রাজনীতি করার অধিকার আছে। সুষ্ঠু পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে বিশ^াসী আমি।
তবে আমি আশবাদি আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সমর্থন পাব ইনশাআল্লাহ। দলের জন্য আমি ১৯৮৬ সালে ছাত্র দলের সদস্য হয়ে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। ১৯৯২ সালে মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-নাট্য সম্পাদক পদে নির্বাচিত হই। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের পূর্বে নিহালপুর কেন্দ্র পুরানো মামলা, ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পূর্বে আ’লীগের শিবালয় উপজেলার নির্বাচনী কার্যালয় অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হই এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার হয়ে ৯ দিন কারাবাসে ছিলাম। নির্বাচনের পরে বের হয়ে আসার পর আবারও মিথ্যা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার হই। ৩দিন আটক ছিলাম। তার পরও প্রিয় সংগঠনের সংগঠনিক সকল কাজে অংশগ্রহণ করে আসছি।

মানিকঞ্জ টাইম্স: আমরা জানি আপনি একজন শিক্ষক। শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা। একজন শিক্ষক সমাজ সংস্কারে এমনিতেই যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারেন। কিন্তু আপনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিশেষ কোন কারণ আছে কি? বিস্তারিত বল্নু।

মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম: একজন শিক্ষক অবশ্যই সমাজ সংস্কারে ভূমিকা রাখতে পারে কিন্তু একজন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও কর্তব্য অত্যন্ত ব্যাপক। একজন চেয়ারম্যানের যেহেতু কাজের ক্ষেত্র ব্যাপক তাই সৎভাবে সকলের সহযোগিতায় এলাকা ও সমাজের ব্যাপক উন্নয়নের জন্য চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ইচ্ছা পোষণ করেছি।
দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারলাম সমাজ ও এলাকা উন্নয়নে কাজ করার জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। দায়িত্ব গ্রহণ ও নিষ্ঠার সাথে কর্তব্য পালনের জন্য এ পদে আসার ইচ্ছা রয়েছে।

মানিকঞ্জ টাইম্স : আপনার পারিবারিক পরিচয় সংক্ষেপে বলুন।
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম: আমি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। আমার বাড়ী উথলী ইউনিয়নের প্রায় মাঝামাঝি এলাকা চরপয়লা গ্রামে। আমার বাবা ছিলেন নয়াবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সুনামধন্য শিক্ষক। মা একজন আদর্শ গৃহিনী। আমার বড় ভাই মো: অহিদুল ইসলাম শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের একজন প্রভাষক। আমার পুত্র মো: তাওহীদুল ইসলাম ঢাকার তেজগাঁও কলেজে এইচএসসিতে অধ্যয়নরত। কন্যা আন আমতা ইসলাম নয়াবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।

মানিকঞ্জ টাইম্স : আপনার শিক্ষা জীবন সম্পর্কে বলুন।
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম: আমি নয়াবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে পঞ্চশ শ্রেণি, নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে হতে এসএসসি পাস করি। মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজ বরংগাইল হতে আই.এ. ও বি.এ. পাস করে বেসরকারী বিশ^বিদ্যালয় হতে এম এ, এমএড ডিগ্রী অর্জন করি। ২০০৩ সাল হতে ঐতিহ্যবাহী নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি।

মানিকঞ্জ টাইম্স : আপনি কি সমাজসেবামূলক কাজ করেন? বিস্তুারিত বলুন। কোন স্বীকৃতি আছে কি?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : হ্যাঁ। সমাজসেবামূলক কাজে আমি আনন্দ পাই। আমি আপ্রাণ চেষ্টা চালাই সমাজসেবায়। আমার গ্রাম উথলী ইউনিয়নের মাঝামাঝি কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভালো না। তাই এলাকার জনগণকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ তদবির করে নতুন ২টি রাস্তা নির্মাণ, ১টি রাস্তা সংস্কারের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া, স্থানীয় চরপয়লা গ্রামে আংশিক বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য কাজ করেছি। যোগাযোগ তদবির করে আমার নিজ বিদ্যালয়ে ২য় ভবনটি নির্মাণের ব্যবস্থা করেছি।
এছাড়া, দরিদ্র, হত দরিদ্র মানুষের মেয়ের বিয়ে এবং মৃত্যুর পর সৎকারে সহযোগিতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সাবেক মন্ত্রী হারুন আর রশীদ খান মুন্নু সাহেবের সহযোগিতা নিয়ে নয়াবাড়ী জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক থাকা কালে দু’তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে আটটি পিলারসহ মসজিদ নির্মানে সার্বিক সহযোগিতা করেছি।
সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য স্বাধীন বাংলা মিডিয়া ভিশন কর্তৃক মহাত্মা গান্ধী স্মৃতি পদক-২০১৭ পেয়েছি।

মানিকঞ্জ টাইম্স : আপনার আত্মীয় স্বজনদের সাথে সম্পর্ক কেমন?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : আমার আত্মীয় স্বজনদের সাথে আমার মধুর সম্পর্ক। আত্মীয় স্বজনদের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করি। তারাও আমাদের অনুষ্ঠানের উপস্থিত হন এবং সহযোগিতা করেন।

মানিকঞ্জ টাইম্স : আমরা জানি, চেয়ারম্যানদেরকে অনেক অর্থনৈতিক কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে হয়। এসব কাজে আপনার দক্ষতা আছে কি? নাকি অন্য লোকের সহযোগিতা না নিলে আপনি এসব কাজ করতে পারেন না।
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : ব্যাংকিংসহ অর্থনৈতিক কাজকর্ম করতে পারি ইনশাআল্লাহ। অন্য কারো সহযোগিতা ছাড়াই সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, পুবালী ব্যাংক, ইসলামি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংকসহ বিভন্ন ব্যাংকের সাথে দীর্ঘ দিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

মানিকঞ্জ টাইম্স : আপনি কি বিভিন্ন এনজিও কাজক্রম সম্পর্কে জানেন? এনজিও কাজের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্ক জানা থাকলে সংক্ষেপে বলুন।
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়নে অনেক এনজিও তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। ব্র্যাক, আশা, গ্রামীন ব্যাংক, সিসিডিবি, ব্যুারো বাংলাদেশসহ স্থানীয় কিছু এনজিও’র কার্যক্রম চলমান। এনজিওর ত্রাণ, মেডিক্যাল ক্যাম্পসহ অন্যান্য সহযোগিতা প্রধান করার সময় উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি ও প্রাপ্য লোকদের সহযোগিতা করে আসছি। এছাড়া, ভুঁইফোর কোন এনজিও থাকলে তাদের সম্পকে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করে থাকি।

মানিকঞ্জ টাইম্স : সমাজের মানুষের সাথে সম্পর্ক কেমন? তাদের বিভিন্ন কাজে কি আপনি অংশগ্রহণ করেন? সংক্ষেপে বলুন।
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের সকল মানুষের সাথে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে নিজেকে যুক্ত রাখার চেষ্টা করি।

মানিকঞ্জ টাইম্স : উথলী ইউনিয়ন বন্যাকবলিত এলাকা। এ এলাকার রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন করা খুবই জরুরী। রাস্তা-ঘাট উন্নয়নে আপনার কোন অবদান আছে কি?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : রাস্তা-ঘাট নির্মান ও সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছি। সাবেক মন্ত্রী হারুন আর রশীদ খান মুন্নু সাহেবের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ তদবির করে বিগত ১৯৯২ – ১৯৯৩ অর্থবছরে কাবিখার (সাড়ে বাইশ টন) গম দিয়ে কান্দাবাসাইল তফিজ উদ্দিনের বাড়ী নিকট পাকা রাস্তা হতে চরপয়লা কামালের বাড়ী পর্যন্ত নতুন রাস্তা নির্মাণ করি।
২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে বড় শিবরাম বাড়ী আসলাম মেম্বারের বাড়ীর নিকট হতে নিখিল বেতিয়ার বাড়ী পর্যন্ত সম্পর্ন নতুন রাস্তা নির্মাণ করি।
২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে নয়াবাড়ী বাজার ব্রিজের নিকট হতে ব্রাহ্মনকোল জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার করি।
১৯৯১-১৯৯২ অর্থ বছরে তৎকালীন মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব হারুন আর রশীদ খান (মুন্নু) সাহেবের প্রচেষ্টায় নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১ম বিলডিং ভবন স্থাপন হয় যা উদে¦াধন করেন সাবেক মন্ত্রী হারুন আর রশীদ খান (মুন্নু) (৭ই মে ১৯৯৪)। এছাড়া, চরপয়লা গ্রামে (আংশিক ) বিদ্যুৎতায়নের ব্যবস্থা করি।
২০০৫ সাল হতে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর চরপয়লা জামে সমজিদের সভাপতি থাকাকালীন সময়ে তৎকালীন সংসদ সদস্য হারুন আর রশীদ খান (মুন্নু) সাহেবের নিকট অনুদান গ্রহণ করে ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা নিয়ে ২০০৫ সনের ২৭ রমজান চরপয়লা জামে মসজিদ ঘর নির্মাণ করি।
২০০৮ সালে নির্বাচনের পূর্বে ১৩ মে নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জনসভায় আমার দাবির ফলে হারুন আর রশীদ খান (মুন্নু) সাহেব নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২য় ভবন নির্মাণ এবং ধূসর নয়াবাড়ী রাস্তা পাকাকরনের প্রতিশ্রুতি দেন। এবং উক্ত বিদ্যালয়ের ২য় ভবন নির্মাণ ও রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হয়।
২০১৩- ২০১৪ অর্থ বছরে কান্দাবাশাইল-চরপয়লা রাস্তার মাঝে ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করি।
এছাড়া, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উথলী ইউনিয়নে জনগুরুত্বপূর্ণ নিম্নোক্ত বিভিন্ন কাজের জন্য আবেদন করেছি:-
১. গাবতলী খালের নিকট হতে দক্ষিণাড়া হয়ে নয়াবাড়ী বাজার ব্রিজ হয়ে কোলা শওকত হোসেনের বাড়ীর পাশ দিয়ে মেহেদীপুর দরবার শরীফ হয়ে আরশেদের বাড়ী পর্যন্ত গাইডওয়ালসহ রাস্তা নির্মাণের জন্য আবেদন করেছি।
২. ব্রাহ্মণকোল ইবাদের বাড়ীর নিকট ইটের সোলিং হতে ব্রাহ্মনকোল আব্দুর লতিফের বাড়ীর নিকট পর্যন্ত রাস্তায় মাটি উত্তোলণসহ এসবিকরণের জন্য আবেদন করিছে।
৩. কান্দাবাশাইল আলমের দোকানের নিকট হতে চরপয়লা মোকছেদ মাস্টারের বাড়ী হয়ে মেহেদীপুর দরবার শরীফ সংযোগ রাস্তা নির্মাণ (নদীতে ব্রিজসহ) করার জন্য আবেদন করেছি।
৪. কান্দাবাশাইল আলমের দোকানের পাশে ব্রিজের গোড়ায় মাটি ভরাট ও গাইডওয়াল,
৫. ব্রাহ্মকোল ইব্রাহিমের বাড়ীর নিকট ব্রিজের ঢালে মাটি ভরাট ও গাইডওয়াল,
৬. ব্রাহ্মকোল জামতলার পাশে ব্রিজের গোড়ায় মাটি ভরাট ও গাইডওয়াল,
৭. কোলা রোকছেদ আলীর বাড়ীর পাশে ব্রিজের ঢালে মাটি ভরাট ও গাইডওয়াল,
৮. বহলাকোল বাজারের নিকট ব্রিজের ঢালে মাটি ভরাট ও গাইডওয়াল নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
৯. কলাবাগান ইটের সোলিং হতে চন্দ্র প্রতাব সুনিল ঘোষের চালা হয়ে বিল পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সুনিল ঘোষের পুকুরের চালা হতে রাধাকান্তপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকট রাস্তার মোড় পর্যন্ত মাটি উত্তোলন পূর্ব এসবিকরণে আবেদন করা হয়েছে।
১০. শশীনাড়া মসজিদের নিকট হতে মাগুরাইল বাজার হয়ে ক) রাধাকান্তপুর একরাম মাস্টারের বাড়ির মোড় পর্যন্ত খ) মাগুরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বাড়াদিয়া পাকা রাস্তা পর্যন্ত মাটি উত্তোলন পূর্বক এসবিকরণের আবেদন করেছি।

মানিকঞ্জ টাইম্স : যেহেতু আপনি একজন শিক্ষক। শিক্ষা প্রদান করাই আপনার প্রধান কাজ। উচ্চ শিক্ষা উন্নয়নে আপনার বিশেষ কোন অবদান আছে কি? শিক্ষায় অবদানের জন্য কোন স্বীকৃতি বা পদক পেয়েছেন কি?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : শিক্ষাদানের পাশাপাসি উচ্চ শিক্ষা উন্নয়নে আমি কাজ করে আসছি। এ জন্য দুটি প্রাইভেট ইউনির্ভাসিটির কো-অর্ডিনেটরের কাজ করে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দানে সহযোগিতা করেছি। শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য আমি স্বাধীন বাংলা শিশু-কিশোর ফাউন্ডেশন-এসএসএফ কর্তৃক স্বাধীন বাংলা শাইনিং পার্সোনালিটি এ্যাওয়ার্ড-২০১৭ পদক লাভ করেছি।

মানিকঞ্জ টাইম্স : আপনি কৃষক পরিবারের সন্তান। পরিবারে কৃষি কাজ আছে। কিন্তু যারা কৃষি কাজ করেন অর্থাৎ কৃষকদের সার্থে আপনার সম্পর্ক কেমন এবং তাদের নিয়ে আপনার কোন পরিকল্পনা আছে কি?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : এলাকার কৃষকদের সাথে আমার অত্যন্ত আত্মার সম্পর্ক। কৃষকদের বিভিন্নভাবে সচেতন করা কৃষি ঋণের ব্যাপারে সাহায্য সহযোগিতা করা, আধুনিক চাষাবাদে উৎসাহিত করাসহ নানা কাজে তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছি। করোনাসহ বিভিন্ন দূর্যোগে কৃষকের ধান ঘরে তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। কৃষি ঋণ মওকুফে সহযোগিতা করেছি। কৃষকদের সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ তদবির ও কৃষি উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি।

মানিকঞ্জ টাইম্স : আপনি একজন শিক্ষক। আপনার শিক্ষকদের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : আমি যেহেতু একজন শিক্ষক। আমার বাবা প্রাধমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, বড় ভাই বিশ^বিদ্যালয় কলেজের প্রভাষক। শিক্ষকের সাথে আমার মধুর সম্পর্ক। আমি তাঁদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করি। আমার স্কুলের শিক্ষকসহ শিক্ষক সমাজের সাথে আমার আন্তরিক সুসম্পর্ক রয়েছে।

মানিকঞ্জ টাইম্স : আপনি একজন শিক্ষক। আপনার ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকগণের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে আমার সন্তানসূলভ সম্পর্ক। তারা যেমন আমাকে সম্মান করে তেমনি আমি তাদের স্নেহ করি, আদর করি। ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের সাথে আমার অত্যন্ত মধুর সম্পর্ক রয়েছে।

মানিকঞ্জ টাইম্স : আপনার এলাকায় কোনো জেলে পরিবার আছে কি? থাকলে তাদের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : এ ইউনিয়নে প্রায় দুই শতাধিক জেলে ও মৎস্য জীবি পরিবার আছে। তাদের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক বিদ্যমান।

মানিকঞ্জ টাইম্স : খেলাধূলা সম্পর্কে আপনার মতামত বলুন।
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : আমি একজন খেলাধূলা প্রিয় মানুষ। ছাত্র ও কর্ম জীবনে বিভিন্ন খেলাধূলায় অংশগ্রহণ
করে ডজন দুয়েক পুরুস্কার পেয়েছি। ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধূলা পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ক্লাব ভিত্তিক খেলাসহ স্থানীয় বিভিন্ন খেলাধূলায় আর্থিক সহযোগিতা করে আসছি।

মানিকঞ্জ টাইম্স : আপনার বন্ধুবান্ধব সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : আল্লাহ পাকের অশেষ কৃপায় আমার অসংখ্য বন্ধবান্ধব ও শুভাকাঙ্খি রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে শুরু করে বিশ^বিদ্যালয় পড়ালেখা করা পর্যন্ত অগণিত বন্ধুবান্ধব হয়েছে। অধ্যাবধি অনেকের সাথে যোগাযোগ চলমান রয়েছে। শুভেচ্ছা বিনিময় হয় উৎসব পার্বনে। রাজনৈতিক ও কর্মজীবনেও অনেক বন্ধবান্ধব হয়েছে। তাদের সাথেও রয়েছে সুগভীর সম্পর্ক ও আন্ত:যোগাযোগ।

মানিকঞ্জ টাইম্স : বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ মাঝে মধ্যেই দেখা দেয়। প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় আপনার কোনো ভূমিকা আছে কি?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : এ এলাকায় বন্যা, খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দেখা দেয়। প্রাকৃতি দূর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতামূল্যক পরামর্শ প্রদান করি। মহামারি করোনায় ৮শতাধিক সচেতনতামূলক এসএমএস করে ছিলাম। এছাড়া, কৃষকদের ধান কেটে দেয়া, মারাই করাসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ত্রাণ সংগ্রহ করে বিতরণের ব্যবস্থা করেছি।

মানিকঞ্জ টাইম্স : আপনি একজন মুসলিম। মুসলিম হিসেবে আপনি নিজ ধর্ম পালন করেন কি?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : অবশ্যই। আমি একজন মুসলিম পরিবারের সন্তান। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, রমজান মাসে রোজা রাখি। আমার পরিবার, সন্তান সকলেই ইসলামি বিধিবিধান মেনে চরার চেষ্টা করে। আল্লাহ সহায় হলে আমি পবিত্র হজ পালন করব ইনশাআল্লাহ।

মানিকঞ্জ টাইম্স : ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল। বাটন চাপলেই মুহুর্তের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশে^র সকল দেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা, তথ্য জানতে পারছি। নিজ দেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ, লেনদেন, তথ্যের আপান-প্রদান করতে পারছি। এভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরাও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

মানিকঞ্জ টাইম্স : মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অনস্বীকার্য।
মুক্তিযুদ্ধ আমি দেখি নাই। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে, বই পড়ে, স্বাধীনতার ইতিহাস হতে যা জেনেছি মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের আমি সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। সেই সাথে মানিকগঞ্জের কৃতি সন্তান প্রথম ভাষা শহিদ রফিকসহ অন্যান্যদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। স্মরন করি শহিদ বুদ্ধিজীদেরকেও ।

মানিকঞ্জ টাইম্স : সাংবাদিকদের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : সাংবাদিকরা জাতির দর্পন স্বরূপ। সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য সাংবাদিগণ জাতির সামনে বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরেন। আবার তারা সরকারী-বেসরকারী উন্নয়নের তথ্যও জানান মানুষকে। আমাদের জেলা-উপজেলার সাংবাদিকসহ সাংবাদিক সমাজের সাথে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে।

মানিকঞ্জ টাইম্স : আপনি যদি উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তাহলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে আপনার ভূমিকা কি থাকবে?
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম : মানিকঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়নটি বিভিন্ন দিকে থেকে গুরুত্ববহন করে। আরিচা ঘাট পাটুরিয়া স্থানান্তারিত হওয়ার কারণে এ ইউনিয়নের গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ইউনিয়নে ৪টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১২টি কিন্ডাগার্টেন স্কুল, ট্রমা সেন্টারসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইত্যাদি থাকার কারণে এ ইউনিয়নের গুরুত্ব বেশি। এ ইউনিয়নের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে মেহেদীপুর দরবার শরিফ।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন হয়রত লুৎফর রহমান (রহঃ) প্রতিষ্ঠিত ইসলাম প্রচারের জন্যে উপ-মহাদেশের বিখ্যাত এ দরবার শরীফে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ হতে এখানে ইসলাম প্রিয় মানুষ আসেন। তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৪৫০টির বেশি মাদ্রাসা, ঈদগাঁ মাঠ, মসজিদ, খানকাশরীফ স্থাপন করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আজও মেহদীপুর দরবার শরীফে যাওয়া-আসার ভাল রাস্তা নেই।
মহান আল্লাহ আমাকে দায়িত্ব দিলে এ দরবার শরীফের রাস্তাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রাস্তা আমি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করবো ইনশাআল্ল্হা।
উথলী ইউনিয়নের উন্নয়নের কথা আমি আগে হতেই ভাবি।
আল্লাহতালার রহমতে আমি যদি উথলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই তাহলে দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অবহেলিত, অনুন্নত উথলী ইউনিয়ের সার্বিক উন্নয়নের কাজ করব ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ করে,
১. উথলী ইউনিয়নের রাস্তাঘাটসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করব।
২. এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের সহযোগিতায় মাদক-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে সহযোগিতা করে এলাকা মাদক-সন্ত্রাস মুক্ত করার চেষ্টা করব।
৩. ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভাট, মসজিদ-মাদ্রাসা, কবরস্থান, শশ্মান ঘাট, সংস্কারের কাজ করব।
৪. সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে সরকারী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করব।
৫. নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব নিজেই পালন করব।
৬. বেকার যুবক যুবাদের জন্য প্রশিক্ষণ, সরকারী ও বেসরকারী ঋণের ব্যবস্থা করে আত্মনির্ভরশীল করার ব্যবস্থা করব।
৭. পরিষদের সচিব, সদস্য, মহিলা সদস্য, গ্রাম পুলিশদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখব।
৮. প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও নারী শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করব।
৯. ইউনিয়নে বাল্য বিবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করব।
১০. বিশেষ কোন জায়গায় নিজেকে আবদ্ধ না রেখে ইউনিয়নের সকল স্থানের মানুষের সংঙ্গে যোগাযোগ রাখব।
১১. কৃষক ও কৃষি উন্নয়নে রাণীনগর বেজিমারা খাল, নয়াবাড়ী বাজারের পাশের খাল, মল্লিকপুর আউজবাড়ীর খালসহ অন্যান্য ছোট খাল খনন করে কোলা, ব্রাহ্মণকোল, মেহেদীপুর, মল্লিকপুর, বাশাইল ও মিরপুর এলাকার কৃষি জমির ফসল নষ্টের হাত হতে রক্ষা করার প্রকল্প গ্রহণ করব।
১২. উথলী ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে বাড়াদিয়া এলাকায় একটি কলেজ স্থাপন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।