শিবালয়ের শীলপাড়া মন্দিরের ভূমি নিয়ে জটিলতা নিরসন

মানিকগঞ্জ টাইম রিপোট ॥
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শীলপাড়া দুর্গা মন্দির নিয়ে দ্বন্দ্ব অবসানের চেষ্টায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।
মঙ্গলবার ইউএনও কামাল মোহাম্মদ রাশেদ, ওসি মনিরুল ইসলাম, পূজা উৎযাপন পরিষদ সভাপতি, সম্পাদক, আ’লীগ নেতাকর্মী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে দীর্ঘ দিনের দ্বন্দ্ব নিরসনের চেষ্টা চালানো হয়।
উপজেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস, প্রেসক্লাব সভাপতি বাবুল আকতার মঞ্জুর, সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুস আলী, ওসি মনিরুল ইসলাম, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি বিকাশ সাহা, পূজা উদ্যাপন পরিষদ সভাপতি সুদীপ ঘোষ বাসু, সাধারণ সম্পাদক রথীন সাহা, প্রধান শিক্ষক সুনীলচন্দ্র নাথ, সুভাষ মজুমদার, যুবলীগ সভাপতি মিরাজ হোসেন লালন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, শিবালয় শীলপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা প্রমোথ শীল সুর্য্যর বাড়ির সামনে রাজবাড়ি জেলার প্রয়াত এমপি আক্কাছ মিয়ার জায়গায় ২৫ বছর যাবৎ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দুর্গা মন্দির স্থাপন করে পূজা-অর্চনা করে আসছেন। আক্কাছ মিয়ার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশগণের নিকট থেকে উক্ত ভূমি ক্রয় করে একটি ডায়বেটিকস্ হাসপাতাল কাজ শুরু করেন। এতে বাঁধ সাধে উক্ত মন্দির কমিটির সভাপতি সূর্য্য শীল। ‘মন্দিরের জায়গা দখলের চেষ্টা’ এমন অভিযোগ তুলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন তিনি। একাধিক অভিযোগের এক পর্যায়ে হাসপাতাল নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর ধারবাহিকতায় গত দুর্গা পূজায় উক্ত মন্দিরের পূজা-অর্চনায় বাঁধা দেয়ার অভিযোগ উঠে আব্দুর রহিম খান ও তার ভাগ্নে শিবালয় মডেল ইউপি চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের আশংকায় সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতি-ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ, উপজেলা পূজা উদ্যান পরিষদসহ গণমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি সুরাহার জন্য একাধিকবার উদ্বত হলেও তা নিরসন না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটে।
গত ৩০ অক্টোবর রাতে উক্ত মন্দির ভাংচুর-লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মন্দির ভাংচুর-লুটপাটের অভিযোগে আব্দুর রহিম খানসহ ৮ ব্যক্তির নামসহ অজ্ঞাত ৬০/৭০ জনের বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় মামলা রুজ্জু হয়। পুলিশ মন্দিরে মালামালসহ একটি পিক-আপ জব্দ ও ৬ ব্যক্তিকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করে। মন্দির ভাংচুরে জড়িতদের শাস্তি ও পূণস্থাপনের দাবীতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসুচি পালন করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় এ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দৃষ্টি পরে।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল মোহাম্মদ রাশেদ জানান, আক্কাছ মিয়ার ওয়ারিশগণের নিকট থেকে রহিম খান জমি ক্রয় করেন। উক্ত জায়গায় কোন পূজা মন্ডবের অবকাঠামো ছিল না কিন্তু পূজা করা হতো। পূজা করার দাবীদের সূর্যশীল মামলা ও মানববন্ধন করে। কিন্তু ঐ স্থানে সূর্য শীলের কোন জায়গা নেই।
অবশেষে মঙ্গলবার মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক, স্থানীয় এমপি, দলীয় নেতৃবৃন্দ, ওসিসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে শান্তির লক্ষ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
ইউএনও কামাল মোহাম্মদ রাশেদ সাংবাদিকদের আরও জানান, উক্ত ভূমি নিয়ে প্রায় ১০ বছর যাবৎ নানা জটিলতা চলে আসছিল। ক্রয়সুত্রে মালিক আব্দুর রহিম খান মন্দির স্থাপন ও যাতায়াতের জন্য কিছু জায়গা আব্দুর রহিম খান লিখে দেবে।

আব্দুর রহিম খান জানান, সকলের সিদ্ধান মেনে নিয়েছি। রাস্তা ও মন্দিদের জন্য জমি দিতে আমি সম্মত আছি। এলাকাবাসীর সার্থে আমি এ জমি দান করবো।