শিবালয়ে আ’লীগ নেতাকে স্কুল কমিটির সভাপতি না করায় হামলা আহত ১০

শহিদুল ইসলাম ॥
শিবালয় উপজেলার শতবর্ষী বরংগাইল গোপাল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন সভায় গতকাল সোমবার হামলায় সহকারী প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত নব-নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য সোহরাব হোসেন, বাউল জালাল সরকার, পুত্র শুভ মোল্লা, ও আব্দুর রাজ্জাক উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আর্মড পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, উক্ত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনে ধার্য তারিখে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবক সদস্যগণ সভায় উপস্থিতি হন। নতুন সভাপতি নির্বাচনের জন্য শিবালয় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম খানের নাম প্রস্তাব করলে অধিকাংশ সদস্য তা সমর্থন করেন। কিন্তু স্থানীয় মহাদেবপুর ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি বাবুল আক্তার খাজা সভাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিজেকে সভাপতি পদে প্রার্থী বলে দাবী করলে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ পেনেল মেয়র আব্দুল কুদ্দুসসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে সভা স্থগিত করা হয়।
রহিম খান সমর্থক বাউল জালাল সভা স্থগিতের বিরোধিতা করলে খাজা সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে বাউল জালালসহ অন্যান্যরা আহত হলে তাদের সমর্থকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উথলী হাসপাতলে ভর্তি বাউল জালাল সরকার সাংবাদিকদের জানান, খাজা ও তার সহযোগি চিহ্নিত আ’লীগ নেতা তরিৎ, টিপু, আওয়াল, আজীম, তপু, নাহিদ, হৃদ, তুর্য সানি, শিমুলসহ অন্যরা অতর্কিতে আমার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা আমাকে বেদম প্রহার করে। তারা আমার পরিধেয় মুজিব কোট ও পাঞ্জাবি ছিঁড়ে আগুন দেয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খবির উদ্দিন জানান, স্থানীয় আ’লীগ নেতা পরিচয়ে বাবুল আক্তার খাজা ও সহযোগিরা সভায় উপস্থিত হয়ে নিজেকে সভাপতি প্রার্থী দাবী করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যরা বাঁধা দেয়। এক পর্যায়ে সভা স্থগিত করা হয়।
এ ব্যাপারে এসএমসি’র বর্তমান সভাপতি আক্তারুজ্জামান বাবুল জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এহেন অরাজক পরিস্থিতি ও হামলার ঘটনায় কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। তবে, খাজা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।