শিবালয়ে ইলিশ রক্ষায় জাল-জেলে আটকে রেকের্ড

শহিদুল ইসলাম !
মা’ ইলিশ সংরক্ষন অভিযানে শিবালয় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ গত ২২ দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক জেলে আটক ও জেল-জরিমানা করেছে। আটক জেলের সংখ্যা ৪৫৭ জন ও জরিমানার পরিমান ৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। আটককৃতদের মধ্যে ১৫৮ জনকে এক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদন্ড দেয়া হয়। গত ১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এ উপজেলার পদ্মা-যমুনায় ৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় অভিযানকালে প্রায় সাড়ে তিন কেটি টাকা মূল্যের সোয়া ৩২ লাখ ঘনমিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল আটক ও ধ্বংষ করা হয়। উদ্ধারকৃত ৬২৫ কেজি ইলিশ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়।
গতকাল সোমবার বিকেলে শিবালয় উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সন্মেলনে ইউএনও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কামাল মোহাম্মদ রাশেদ মা’ ইলিশ নিধন রোধে পরিচালিত অভিযানের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, মানিকগঞ্জের তিনটি উপজেলার মধ্যে শিবালয় মৎস্য বিভাগ ৪৫৭, দৌলতপুর ১১৮ ও হরিরামপুরে ৪২ জন জেলে আটক করে। উল্লেখ্য, গতবছর ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত এ উপজেলায় মা’ ইলিশ রক্ষা অভিযানে ২৯৮ জন আটক, ৫৮ জনের জেল ও ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
জানা গেছে, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা-যমুনার কয়েকটি স্থান ইলিশের অভয়ারণ্য ও প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত। অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রফিকুল আলম, মানিকগঞ্জ জেলা সাংবাদিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক শাজাহান বিশ্বাস, শিবালয় প্রেসক্লাব সভাপতি বাবুল আকতার মঞ্জুর, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, যুগ্ন-সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুস আলী, সাংবাদিক নিরঞ্জন সূত্রধর, আকমল হোসেন খান, মারুফ হোসেন, মনিন্দ্র বিশ্বাস, হাসান চৌধুরী, আকাশ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মা’ ইলিশ সংরক্ষণে আগামীতে ডিম ছাড়ার মেয়াদ, ইলিশ প্রজনন ও সংরক্ষিত এলাকার মৎস্য বিভাগের জনবল, নৌ-যান, অর্থ বরাদ্ধ, বর্তমান ট্রাস্কফোর্সের আকার বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পরামর্শ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য যে, ২২ দিনের অভিযান শেষে গতকাল ২৩ অক্টোবর শিবালয়ের আরিচা, জাফরগঞ্জ ও পাটুরিয়া মৎস্য আড়তে ডিমওয়ালা বিভিন্ন আকৃতির অন্তত ২০ টন ইলিশ দেড় থেকে ৬শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।