শিবালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কৃষিতে বায়োচার ব্যবহার কর্মশালা

মানিকগঞ্জ টাইম্স রিপোর্ট ॥
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কৃষিতে বায়োচার প্রযুক্তির ব্যবহার ও সম্প্রসারণ কর্মশালা ৭ আগস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ-সিসিডিবি প্রশিক্ষণ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।
বায়োচার উৎপাদনকারী আখা ব্যবহারকারী ২০ জন ও বায়োচার ব্যবহারকারী ২০ জন কৃষক নিয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা আইসিসিও এবং কার্ক ইন এক্ট এর সহযোগিতায় সিসিডিবি আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ। সিসিডিবি এরিয়া ম্যানেজার রুহী রহমানের সভাপতিতে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রিয়াজুল রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মর্তা মো. জুবায়ের আহমেদ, এনজিও ব্র্যাক প্রতিনিধি, ফার্মাস বায়োচার প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষ্ণ কুমার সিংহ, মনিটরিং এ্যাসোসিয়েট এ্যাডলিনা রিচেল বৈদ্য, সময় টেলিভিশন প্রতিনিধি মো. ইউসুফ, চ্যানেল ২৪ প্রতিনিধি মো. ইউসুব আলী, দৈনিক মানিকগঞ্জ টাইম্স সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুস আলী, অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালা সঞ্চালন করেন সিসিডিবি’র সমন্বয়কারী মি. সমীরণ বিশ^াস।
জানা গেছে, শিবালয় উপজেলায় ১২০টি পরিবার কৃষি বান্ধব চুলা ‘আখা’ ব্যবহার করছেন। ২০০০ জন গৃহিণী ও কৃষক কাষাণীকে আখা ও বায়োচার সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। ২৫১ জন গৃহিনীকে আখা ব্যবহার, কৃষি অফিসের সহায়তায় ২৬৩জন কৃষক-কৃষাণীকে বসতভিটায় সব্জি চাষ এবং ১৬০ জন কৃষককে বয়োচার ব্যবহার করে জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
আখায় ধোঁয়া কম হয় ও কার্বন নি:সরণ না করে তা বায়োচারে ধরে রাখে, খড়ি কম লাগে, সময় কম লাগে, রান্নার পাশাপাশি বায়োচার পাওয়া যায়। বায়োচার জমিতে ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা ও ফলন বৃদ্ধি পায়।
বায়োচার হচ্ছে আখায় উৎপাদিত এক ধরণের কয়লা। বায়োচার ব্যবহারে জৈব উপাদান ও সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, পুষ্টি উপাদান ধরে রাখে, মাটিতে অবস্থানকারী অনুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বায়োচার একটি উত্তম অনুষঙ্গ। তাই, অধিক হারে বায়োচার উৎপাদনকারী কৃষিবান্ধব আখা ব্যবহার ও বায়োচার ব্যবহার বাড়াতে হবে।
বর্তমানে সিসিডিবি’র বায়োচার প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ে বায়োচার ব্যবহারকারী কৃষকের জমিতে বায়োচারের কার্যকারিতা পরীক্ষণ, বায়োচার ব্যবহার ও গবেষণা কাজের সাথে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, হাজী দানেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ^বিদ্যালয় ও শেরে-ই-বাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয় সম্পৃক্ত।