শিবালয়ে দালান-কোঠা নির্মাণে অনুমোদন নেয়নি কেউ !

মানিকগঞ্জ রিপোর্ট ॥
বিধিবদ্ধ নিয়ম-নীতির কোন তোয়াক্কা না করে শিবালয় উপজেলার সর্বত্র ব্যাঙের ছাতার ন্যায় ব্যক্তি মালিকানাধীন বহু দালান-কোঠা গজিয়ে উঠছে। এতে, সরকারি বিধি-বিধান অমান্যের সাথে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশংকা তৈরি হচ্ছে। অনুমোদন না নিয়ে যত্রতত্র এমন ইমারত গড়ে তোলার কারণে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে, যেনতেন উপায়ে তৈরিকৃত এসকল দালাল কোঠা সামান্য ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধ্বংস হলে ব্যাপক প্রাণহাণি ও ক্ষয়ক্ষতির আশংকা রয়েছে। উল্লেখ্য, সাভারের ‘রানা প্লাজা’ ধসে বহু হতাহতের ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক আতংক সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সরকার ব্যক্তি মালিকানায় দালাল কোঠা বা ইমারত তৈরি ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম প্রণয়ন করে।
জানা গেছে, ইমারত বা দালান কোঠা তৈরির জন্য সরকারি নিয়মে আবেদন ও ফি জমার বিধান রয়েছে। ব্যক্তি মালিকানায় ইমারত বা দালান কোঠা নির্মাণের পূর্বে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির নিকট আবেদনের নিয়ম রয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আহ্বায়ক, উপজেলা প্রকৌশলী সদস্য সচিব, ইউএনওসহ উপজেলা পর্যায়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী সমন্বয়ে উপজেলা পর্যায়ে দালাল কোঠা নির্মান অনুমোদন কমিটি রয়েছে। অনুরূপভাবে, জেলা প্রশাসককে প্রধান করে জেলা পর্যায়ের কমিটি রয়েছে। নির্ধারিত ফি ও আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিটি সকল তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই, মৃত্তিকা পরীক্ষা রিপোর্ট ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দালাল তৈরির অনুমোদন দেয়। এ নিয়মের বরখেলাপকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু, শিবালয় উপজেলার আরিচা, উথলী, নিহন্দ, টেপড়া, নালী-পাটুরিয়া, মহাদেবপুর, বরংগাইলসহ বিভিন্ন স্থানে এ যাবৎ ৫-৭ তলার নির্মিত দালান ব্যবসা-বাণিজ্য ও আবাসিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এরমধ্যে আরিচা খান মার্কেট, দুলাল লেদ, ইছাক মিয়ার ব্যাংক বিল্ডিং, পাটুরিয়ার আফতার প্লাজা, নিহন্দর জাহাঙ্গীর মঞ্জিল, টেপড়ার লতিফ ম্যানশন ইত্যাদি নামে গড়ে তোলা ভবন বাণিজ্যিক ও আবাসিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এতে, গজিয়ে ওঠা এসকল দালান কোঠার পাশ^বর্তী বাসিন্দারা নানা আতংকে দিন কাটাচ্ছে।
শিবালয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আকবর জানান, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কমিটির অনুমোদন ব্যতিত ব্যক্তিমালিকানাধীন কোন দালান নির্মাণের কোন সুযোগ নেই। বিশেষ করে রানা প্লাজা ধসে হতাহতের ঘটনায় সরকার নতুন বিধি-বিধান প্রণয়ন করেছে। ইউএনও কামাল মোহাম্মদ রাশেদ জানান, আইন অমান্য করে দালান নির্মানকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, বিধি অনুযায়ী ব্যক্তিগত দালান বা ইমরাত নির্মাণের জন্য এ যাবৎ কেউ কোন আবেদন করেনি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, নির্মাণ বন্ধ বা ধ্বংস করার ব্যাবস্থা নেয়া হবে। তবে, সরকারি দালান কোঠা বিধি মেনে নির্মাণ করা হয়ে থাকে।