শিবালয়ে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন দু’শিক্ষক

মানিকগঞ্জ টাইমস রিপোর্ট ॥
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দুর্গম চরমধ্যনগর রুস্তম হাওলাদার এইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের মারপিট ও হুমকির শিকার দু’শিক্ষক প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান ও হুমায়ুন কবির উর্দ্ধতন মহলে অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার না পেয়ে গতকাল শুক্রবার স্থানীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের নিকট লিখিত অভিযোগ জানান।
অভিযোগে বলা হয়, এ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আব্দুল বাতেন, বাবলু হাওলাদার ও সহযোগীরা চাহিদা মাফিক টাকা না পেয়ে গত ২৭ জুলাই সিনিয়র শিক্ষক হুমায়ুন কবিরকে বেদম মাপরপিট করে পার্শ্ববর্তী যমুনা নদীতে ফেলে দেয়। একই উদ্দেশ্যে অপর শিক্ষক মিজানুর রহমান চরম হুমকির মুখে রয়েছে। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এ বিদ্যালয়ের ত্রি-তল ভবন ইতোমধ্যে যমুনায় বিলিন হলেও যথাসময়ে তা নিলামে বিক্রি না করে কতিপয় সদস্য তা আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভূক্তভোগী দু’শিক্ষক সাংবাদিকদের জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এ গ্রামের বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর ঢাকার বাসায় কাজের বুয়া হিসেবে রয়েছে। এ সুবাদে তিনি বিদ্যালয়ের নানা বিষয়ে অযৌক্তিক ও বেআইনী কাজ-কর্ম চালিয়ে আসছে। বিদ্যালয়ে পিয়নপদে মরিয়মের পুত্র শরীফ হোসেন, অফিস সহকারী তার কন্যা জামাতা ফরিদ উদ্দিন ও ভাই আব্দুল বাতেন দাতা সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চালিয়ে আসছে। এদের যোগসাজসে বেআইনীভাবে শরীরচর্চা শিক্ষক আব্দুল মান্নানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে বসানো হয়েছে। এরা শিক্ষক কর্মচারীদের নিকট মোটা টাকা দাবি করে না পাওয়ায় শিক্ষক মিজানুর রহমান ও হুমায়ুন কবীরকে নানা হুমকি প্রদান ও বেতন-ভাতা দীর্ঘদিন বন্ধ রাখে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এদের বেতন পূনরায় চালু হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ গোলাম ফারুক জানান, নদী ভাংগনের মুখে পড়া বিদ্যালয় ভবণ যথাসময়ে নিলামে বিক্রির দায়িত্ব পরিচালনা কমিটির।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান জানান, যমুনা গর্ভে বিদ্যালয় ভবণ বিলিনের আগে যাবতীয় মালপত্রের তালিকা প্রস্তত করা হলেও সভাপতির নির্দেশে তা নিলাম করা হয়নি।