শিবালয়ে নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

মানিকগঞ্জ টাইম্স রিপোর্ট ॥
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবৈধ শিক্ষকসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদলতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সভাপতি আবুল কাশেম।
জানা গেছে, গতকাল বুধবার বিজ্ঞ শিবালয় সহকারী জজ আদালতের মামলা নং ৩৪/২০১৮ ও মঙ্গলবার বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মামলা নং ১০৪।
মামলায় উল্লেখ করা হয় বিদ্যালয়ের কমিটি যোগসাজসী কায়দায় অবৈধভাবে সমির কুমার দাসকে নিয়োগ দেন। কমিটির সদস্যরা গণিত বিষয়ে নিবন্ধনকৃত শিক্ষক সমীর কুমার দাসকে বিজ্ঞানে বিষয়ে এমপিওভূক্তির পাঁয়তারা করছেন। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিদ্যালয়ের রেজুলেশনে বিজ্ঞান বিষয় কর্তন করে অবৈধভাবে সেখানে গণিত বিষয় লেখা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক সমীর কুমার দাসকে ঠক, প্রতারক, চরিত্রহীণ, লম্পট ও শিক্ষকতা পেশায় হুমকি স্বরূপ বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, পাশর্^বতী উপজেলার মুসলমান মেয়ে সীমা আক্তারের সহিত অবৈধ সম্পর্কে কন্যা সন্তানের জন্ম হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। ইতিপূর্বে নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে দুটি চাকরী হতে বরখাস্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া, প্রধান শিক্ষক ও কমিটির অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে প্রকাশ, নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় অবৈধ সহকারী শিক্ষক সুমীর কুমার দাসের এমপিওভূক্তির কাগজ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অনলাইনের মাধ্যমে উপ-পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা অঞ্চল, ঢাকা বরাবর আবেদন করেন। উপ-পরিচালক গত ৩ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিবন্ধন না থাকায় থাকায় তা বাতিল করে দেন।
সহকারী শিক্ষক তার আবেদনে উল্লেখ করেন ৮মার্চ ১৪ তারিখে তিনি এ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিষয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন কিন্তু তার এনটিআরটি-এর নিবন্ধন সনদ গণিত বিষয়ে।
অভিযোগ আরো উল্লেখ করা হয়, সুমীর কুমার দাস নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১৪ সালের ৮ মার্চ সহকারী শিক্ষক বিজ্ঞান বিষয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর তার এমপিও ভুক্তির আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মহাপরিচালকের দপ্তরে ঐ বছরই ১৫ এপ্রিল জমা দেওয়া হয়। যার ডকেট নং ৮২৯৫। ঐ সময়ও সনদে গরমিল থাকায় এমপিও ভুক্তি হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কোন আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে গণিত বিষয়ে নিবন্ধনকৃত শিক্ষক সমীর কুমার দাসকে অবৈধভাবে বিজ্ঞান বিষয়ে নিয়োগ দেন। নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইল হোসেন ও সভাপতি তুষ্টলাল দত্ত মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সুমীর কুমার দাসকে অবৈধভাবে এমপিও ভূক্তির জন্য কাগজ-পত্র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠান যা ৩ এপ্রিল বাতিল হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সভাপতি ও সহকারী শিক্ষক সমির কুমার দাস সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।