শিবালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের নতুন অভিযোগ

মানিকগঞ্জ টাইম্স রিপোর্ট ॥
শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের নতুন অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষক হামিদুল ইসলাম গত ১০ মার্চ মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে বলা হয়, ১৩/১১/২০১১ তারিখ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ জারি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অতিরিক্ত শ্রেণি শাখা ও বিভাগ/বিষয় অনুমোদনের বিপরীতে বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদেরকে এমপিওভূক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু নয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উক্ত অফিস আদেশ অমান্য করে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হামিদুল ইসলামের আবেদন পত্র প্রেরণ করছেন না। বিধায় অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার বিপরীতে বিধিমোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক হামিদুল ইসলাম এমপিওসহ অন্যান্য সুবিধাদি হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিদ্যালয়ের ফান্ড হতে বিধি মোতাবেক টাকা না পাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এছাড়াও, প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে ৩জন শিক্ষক বরখাস্ত, ছাত্র নির্যাতন, শিক্ষকের বেতন কর্তন, ভর্তির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়, বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ব্যক্তিগত মামলা পরিচালনা, স্বজনপ্রীতি, বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ, ভূয়া বিজ্ঞান শিক্ষক নিয়োগ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অনিয়ম-দুর্নিতির অভিযোগ রয়েছে।
ভূক্তভোগী শিক্ষক হামিদুল ইসলাম জানান, গত ২০১৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিধি মোতাবেক অতিরিক্ত শ্রেণি শাখায় নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান) হিসেবে যোগদান করে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব ও কর্তৃব্য পালন করে আসছি। দীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ বিদ্যালয় হতে অতি সামান্য টাকা পাচ্ছি যা দিয়ে ৬ সদস্যের সংসার চালাতে পারছি না।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম ফারুক জানান, অতিরিক্ত শ্রেণি শাখা অনুমোদনের প্রেশিতে নিয়োগকৃত শিক্ষক/জনবলের বেতন ভাতাদি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তহবিল হতে পরিশোধ করার বিধান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এমপিওভূক্তি লক্ষ্যে গত ২০ ফেব্রুয়ারি নয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনকে সহকারী শিক্ষক হামিদুল ইসলামের কাগজপত্র অনলাইনে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, এমপিও ভূক্তির লক্ষ্যে ইতিপূর্বে ওই শিক্ষকের কাগজপত্র দু’বার প্রেরণ করা হয়েছিল। ত্রুটির কারণে ফেরত এসেছে।