শিবালয়ে প্রধান শিক্ষক-সহকারী শিক্ষক দ্বন্দ্ব পরিণতি কি ?

স্টাফ রিপোর্টার ॥

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মধ্যে দ্বন্দ্বের পনিণতি নিয়ে নানা ধোয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে প্রধান শিক্ষকের নোটিশের পর নোটিশ প্রদান অপর দিকে সহকারী শিক্ষকের জবাব প্রদান, মামলা, জিডি ও বিভিন্ন দ্প্তরে অভিযোগ। অবশেষে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক প্রেরিত সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই চড়ান্ত নোটিশের উপরে নিষেধাজ্ঞা দেন বিজ্ঞ আদালত।
সহকারী শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলামের নামে প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের দেয়া হয়রানিমুলক নোটিশ জারির বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত গতকাল সোমবার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। উল্লেখ্য, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কারনিক বেনজির আহমেদ লাঞ্ছিত, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঔধ্যত্ত্বপূর্ণ আচরণসহ নানা কারণে ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন মনগড়া অভিযোগ ও স্বেচ্ছাচারিভাবে সিনিয়র শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের চার দিনের বেতন কর্তন করেন। এ নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সদস্য, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বেতন কর্তন ও নোটিশ প্রদান বিধি সম্মত হয়নি বলে সাব্যস্থ হয়। শিবালয় ইউএনও কামাল মোহাম্মদ রাশেদ বিষয়টি নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন। তা সত্বেও উক্ত প্রধান শিক্ষক গত ৪ জুলাই জাহিদুলের নামে ৩য় তফা নোটিশ প্রদান করেন। এহেন নোটিশের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। বিজ্ঞ জজ মোরশেদ আল মামুন ভূইয়া উক্ত নোটিশের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদেশে বলা হয়, এ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত প্রধান শিক্ষকের দেয়া নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে।
সহকারী শিক্ষক দূদক, এনএসআই, মাউসিসহ বিভিন্ন বিভাগে প্রেরিত অভিযোগে বলেন, নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম প্রধান শিক্ষকের সংগে আলোচনাক্রমে ২৬শে এপ্রিল থেকে ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত ২টি আবেদন দিয়ে নৈমিত্তিক ছুটি গ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন মঞ্জুর না করে তিনি ৪দিনের বেতন কর্তন করেছেন। পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের নিকট ছুটির আবেদন দেওয়ার পরেও অন্যায়ভাবে বেতন কর্তন করে এবং বিধি লঙ্ঘন করে ব্যাংক থেকে বেতন উত্তোলন করেছেন (২৫/০৫/২০১৭ খ্রিঃ) নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইল হোসেন। স্কুলের শিক্ষকদের বেতন শীটে নির্দিষ্ট শিক্ষকদের স্বাক্ষরিত স্থানে প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইল হোসেন নিজেই সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের পক্ষে স্বাক্ষর করে শিবালয়স্থ অগ্রণী ব্যাংক আরিচা ঘাট শাখা থেকে বেতন উত্তোলন করেছেন। উল্লেখিত উক্ত বিলে মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের চেক বুকের প্রয়োজন হয়নি। পরিচালনা পরিষদের ১০ জনের ভিতর ৬ জনের সুপারিশ ছিল যাতে বেতন কর্তন না করা হয়। কিন্তু সমাধান না করে জাহিদুলকে পরপর দুইবার কারণ দর্শানোর নোটিশ তার ই-মেইলে পাঠানো হয়। তাছাড়া প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মধ্যে সৃষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকায় অভিভাবক, শিক্ষক, ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে অন্যায়ভাবে সিনিয়র শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এখন আবার আদাজল খেয়ে লেগেছেন। জাহিদুল ইসলাম বাধ্য হয়ে গত ২৩/০৫/২০১৭ ইং তারিখ হইতে ২৯/০৬/২০১৭ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন উর্ধতন দপ্তর সমূহে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকুরীর নিরাপত্তা ও জীবনের নিরাপত্তার জন্য অভিযোগ দাখিল করেছেন। এ সংক্রান্ত দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সহ মিডিয়ার নিকট সংবাদ সম্মেলন ও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গত ৭/৬/২০১৭ তাং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ খবির উদ্দিন ও উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে নয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের এস.এম.সির সভাপতি মৌখিক পূর্ব অনুমতিতে এবং ইউএনও মহোদয়ের অনুমতিক্রমে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা আফিসে সিনিয়র শিক্ষক জাহিদুল উভয়ের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের সুষ্ঠু মিমাংশা হয়। কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হল। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি মহোদয় উক্ত মিমাংশার বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে সিনিয়র শিক্ষক জাহিদুলকে কূট কৌশলে বিদ্যালয় থেকে সড়ানোর জন্য একের পর এক নোটিশ দিয়ে যাচ্ছেন। অপক্ষমতাধর প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির যোগসাজসে সিনিয়র শিক্ষক জাহিদুলকে মিটিং-রেজুলেশন ও প্রধান শিক্ষক এর স্বাক্ষর ছাড়াই স্মারক নং- নউবি/শিবা/মানিক/২০১৭/০৮, ৭/৫/২০১৭ ইং তারিখ দিয়ে প্রধান শিক্ষক এর স্বাক্ষর ছাড়াই সিনিয়র শিক্ষক জাহিদুল ইসলামকে তার ই-মেইলে ২.৩৯ ঘটিকায় প্রেরণ করেন, অভিযোগে জানা যায়। “কথা সত্য মতলব খারাপ, পুরান বতলে নতুন মদ, গোমর ফাঁস”। সিনিয়র শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম তার উক্ত অবৈধ নোটিশের জবাব দেন ১৮/০৫/২০১৭ তারিখ। পরবর্তীতে ২২/০৫/২০১৭ খ্রিঃ ২য় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। সিনিয়র শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম তার সুষ্ঠু সুন্দর জবাব দেন ০৩/০৭/২০১৭ তারিখ। ৪/৭/২০১৭ তারিখে বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চূড়ান্ত ৩য় বার তার ই-মেইলে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল মোহাম্মদ রাশেদ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ খবির উদ্দিন মিমাংশা করা সত্বেও কোন শক্তির বলে অবৈধভাবে নিতিগতকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করছেন। ইতপূর্বে তার বিভিন্ন দূর্নীতি অপকর্ম স্বজনপ্রীতি অননুমোদিত শাখায় শিক্ষক নিয়োগ সহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের করনিক বেনজির আহাম্মেদকে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কার্যালয়ে লাি ত করেন যা সহকারি কমিশনার ভূমি স্বয়ং প্রত্যক্ষ এবং নিবৃত্তি করার চেষ্টা করেছিলেন। পাশের রুমেই মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুস সাদাত সেলিম শিবালয় উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনে আসেন। এ সময় উক্ত অফিসের পাশে অবস্থিত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে প্রবেশ করে ৭/৬/২০১৭ তারিখ প্রধান শিক্ষক ও জাহিদুল ইসলামের মিমাংশার দিন ১৮/০৫/২০১৭ ইং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিবালয় থানার সাধারণ ডায়েরির কথা প্রসঙ্গে উক্ত অফিসের সহকারি বেনজির আহাম্মেদ বলেছিলেন স্যার উপজেলায় মিটিং ছিল ১.৩০ মিঃ আর আপনি এসেছেন ১.০০ টায়, আর জাহিদুল স্যার জিডিতে সময় উল্লেখ করেছেন ১১.১৫ মিঃ। উপস্থিত সকলেই প্রধান শিক্ষকের আচরনে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। তারই জের ধরে ১৩/০৬/২০১৭ তারিখ করনিক বেনজিরের উপর আক্রমন করেন। জাহিদুল ইসলাম গত ২৯/০৬/২০১৭ তারিখ এনএসআই, ডিজিএফআই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, ১৩/০৭/১৭ খ্রি: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও মহা পরিচালক, মাউশি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলোর সরজমিনে তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।