শিবালয়ে প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যু কমাতে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মানিকগঞ্জ টাইমস রিপোর্ট

‘মা ও শিশুর সুরক্ষা চাই, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসব চাই’ শ্লোগান নিয়ে মাতৃমৃত্যুর হার কামাতে সংক্রামণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বৃদ্ধির লক্ষ্যে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পায়কট বাংলাদেশের সহযোগিতায় শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২১ জুন এ কর্মশালার আয়োজন করে।

শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ ইকবাল সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান খান জানু। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা ও শিবালয় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফিরোজ কবির।

শিবালয় উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর হামিদা ইয়াসমিন ও পায়কট বাংলাদেশে’র প্রোগ্রাম অর্গানাইজার তৌফিক আহমেদের সঞ্চলনায় মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন ডা. মো. আশরাফুল ইসলাম।

কর্মশালায় ডাক্তার, নার্স, শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির পেশার ২৫জন নেতৃত্বস্থানীয় লোক অংশ নেন।

সভায় বক্তাগণ বলেন, অপার সম্ভাবনার দেশ আমাদের এ বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এ দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। তারপরও গর্ভজনিত কারণে বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ১৪ জন মা মারা যান। যার বেশির ভাগই সঠিক সময়ে যথাযথ চিকিৎসেবা নিলে প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশের শতকরা ৪৬ ভাগ নারীর প্রসব বাড়িতেই হয় এবং গর্ভকালীন সঠিক সেবা গ্রহণ করে মাত্র ৩৬ ভাগ।

বক্তারা আরও বলেন, শুধু সরকারের পক্ষে মাতৃমৃত্যুর হার কমানো সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বেসরকারী পর্যায়ে ও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সামাজিক আন্দোলন। এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার, বেসরকারী সংস্থা ও গণমাধ্যম সকলের ভূমিকা রয়েছে। নিজ নিজ পেশাগত অবস্থানে থেকে এ ভূমিকা পালন করা যায়। এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও সদিচ্ছা।

মাতৃমুত্যু হার কমাতে সংক্রামণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বাড়াতে কর্মশালায় আগত সকল অংশগ্রহণকারীগণ সহযোগিতা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।