শিবালয়ে বন্ধকী সম্পত্তি নিলামের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা

মানিকগঞ্জ টাইমস রিপোর্ট ॥
শিবালয় যুব বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের বিপরীতে রাখা বন্ধকী সম্পতি অবৈধভাবে নিলামে তোলার অপতৎপরতার বিরুদ্ধে মহামান্য হাই কোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজার অসৎ উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহীতার জমাকৃত টাকা হিসাবে না তুলে এহেন নিলাম বিজ্ঞপ্তি জারির ঘটনায় ভূক্তভোগী মহলে দারুন ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলা সমবায় অধিদপ্তরে নিবন্ধনকৃত শিবালয় যুব বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ২০ জন সদস্য ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই রূপালী ব্যাংক ঘিওর বাজার শাখার মাধ্যমে এসএমই’র আওতায় ৪৪ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা মেয়াদী ঋণ নিয়ে ১২টি সিএনজি অটোরিক্সা ক্রয় করে সদস্যদের মধ্যে দেয়া। ঋণের বিপরীতে সমিতির সভাপতি মোঃ ইমরান হোসেন, জামিনদার মোঃ জাফর আলী ও মোঃ ইছাক মিয়ার স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখা হয়। এ ঋণ বাবদ চলতি বছরের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২১ লক্ষ টাকা জমা দেয়া হয়।
২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর ব্যাংকের আইনজীবী প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকা পরিশোধের জন্য নোটিশ দেন। এ নোটিশের প্রেক্ষিতে ঋণ গ্রহিতারা ৩ লক্ষ ১২ হাজার টাকা জমা দেন। অভিযোগ রয়েছে, ঋণ বাবদ জমাকৃত এ পরিমান টাকা যথাসময়ে ব্যাংক লেজারে না তুলে অযথা কালক্ষেপন করা হয়। সমিতির নামে কেনা এ সকল সিএনজি-অটোরিক্সা সরকারী বিধি-নিষেধে মহাসড়ক ও অন্যান্য রাস্তায় চলাচলে বাধাগ্রস্থ হয়। অনেক সদস্য অটোরিক্সা চালানো বন্ধ করে সমিতিতে ফেরত দেন। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কিস্তি পরিশোধে ব্যার্থ হয়ে সমিতির সদস্য তেওতা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলিম আত্মহত্যা করে। এ প্রেক্ষিতে অটোরিক্সা মেরামত ও সুদ মওকুফের জন্য ব্যাংকে আবেদন করা হলেও তা গ্রাহ্য হয়নি।
তা সত্ত্বেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গত ২৯ জুলাই পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এ ঘটনায় ভূক্তভোগীরা আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০ আগস্ট হাই কোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতি তারিকুল হাকিম ও বিজ্ঞ বিচারপতি মো. ফারুক সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ উক্ত ব্যাংকের নিলাম কার্যক্রম বন্ধের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।