শিবালয়ে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে মামলা জটিলতা শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

মোহাম্মদ ইউনুস আলী ॥
শিবালয় উপজেলায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বিভাগীয় অভিযোগ ও মামলা জটিলতায় শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মত বিঘিœত হচ্ছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি-এসএমসি সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক প্রভাবশালীদের দ্বন্দ্ব, মনোমালিন্য এবং নানা চাওয়া-পাওয়া নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে ইতোমধ্যে বিভাগীয় অভিযোগ এমনকি বিজ্ঞ আদালাতে মামলা দায়ের হয়েছে। এ নিয়ে সচেতন শিক্ষক, অভিভাবক ও অভিজ্ঞ মহলে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীর শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রী কলেজে কয়েক মাস ধরে ছাত্র-শিক্ষক দ্বন্দ্বের জেরে পরীক্ষা বন্ধ, ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হয়। এতে শিক্ষা কার্যক্রম দারুন ব্যাহত হয়। নাজুক পরিস্থিতির এক পর্যায়ে ২৯ জুন অধ্যক্ষ ড. বাসুদেব কুমার দে শিকদার সাময়িক বরখাস্ত হন। তবে অধ্যক্ষ বাসুদেব জানান, মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি মিথ্যা অভিযোগে বেআইনীভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দেন। এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী অধ্যষিত নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের একাধিক আবেদন সত্ত্বেও ৪ দিনের ছুটি মঞ্জুর না করা সংক্রান্ত জটিলতায় আদালতে মামলা দায়ের হয়। এতে প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।
ইতিপূর্বে এসএমসি কর্তৃক বহিস্কৃত হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মূখর অক্সফোর্ড একাডেমীর প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বহিস্কৃত হন। এ একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন জানান, ৬ মাস আগে শিবালয় ইউএনও’র অফিস আদেশে বহিস্কৃত আব্দুল মতিনকে স্বপদে যোগদানের চিঠি দেয়ায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এমপিও সীটে স্বাক্ষর জটিলতায় ৫ মাস বেতন বন্ধ থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। একাডেমীক কার্যক্রম ও শিক্ষা পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
যমুনা নদীর চার দফা ভাঙ্গন শিকার জাফরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ জটিলতায় প্রায় দেড় বছর যাবৎ বিভিন্ন সমস্যা চলছে। সনাতন ধর্ম শিক্ষক সুশংকর কুমার চক্রবর্তী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নিলেও আদালতে মামলা চলায় সমস্যা সমাধান হচ্ছে না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মকর্তা মো. খবির উদ্দিন জানান, এ সকল স্কুল কলেজে সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে দায়েরকৃত অভিযোগ সমাধানের চেষ্টা চলছে। দায়েরকৃত মামলা সম্পর্কে বিজ্ঞ আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।