শিবালয়ে ব্র্যাক মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচি ও প্রশাসনের সহায়তায় শিল্পীর সন্তান উদ্ধার

মানিকগঞ্জ টাইম্স রিপোর্ট ॥
শিবালয় উপজেলার চরপয়লা গ্রামের মোঃ জামাল শেখের ছেলের মো: শাহাদাতের  সাথে দৌলতপুরের উত্তরআরা  গ্রামের মোঃ চান শেখের মেয়ে মোছাঃ শিল্পি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়েতে ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে সম্পূর্ন টাকা বকেয়া রেখে পারিবারিক আয়োজনের মাধ্যমে বিয়ে হয়। সংসার চলাকালীন সময়ে তাদের গর্ভজাত দুইজন সন্তান জন্মলাভ করে। প্রথম সন্তান মোঃ রাসেল ১৩ বছর বয়স এবং দ্বিতীয় সন্তান  মোছাঃ সিনহা ২ বছর বয়স ।
এভাবে  সংসার চলার এক পর্যায়ে  শাহাদত তার স্ত্রী শিল্পিকে অকারণে মারধর করে এবং দুধের বাচ্চা সিনহাকে তার মায়ের নিকট থেকে কেড়ে রেখে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে  দেয়। শাহাদত তার স্ত্রীকে নিয়ে  আর সংসার করবে না বলে জানায়। ভূক্তভোগী শিল্পী এ বছর ২৯ মে বাবার বাড়িতে চলে আসে এবং সে নিজ কন্যা সন্তান সিনহাকে পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে তার স্বামীর সাথে যোগাযোগ করে। কিন্তু সাহাদাত কন্যা সন্তানকে কোনভাবে তার নিকট দিতে রাজি হয়নি।
এতে, ভিকটিম মানসিক ও শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে ও প্রায় ১৮/১৯দিন কেটে গেলেও  স্বামী শাহাদাত তার ভরনপোষন ও খোঁজ খবর নেয়া বন্ধ করে দেয়। ভিকটিম  সন্তানকে পাওয়ার জন্য কোথায় যাবে তা  বুঝতে না পেরে তার মামির নিকটে কান্নাকাটি শুরু করলে মামি রেহেনা (স্বাস্থ্য সেবিকা) তাকে নিয়ে গত ১৪ জুন ব্র্যাক দৌলতপুর আইন সহায়তা কেন্দ্রে  আসে  এবং কর্মরত এইচআরএলএস অফিসারের নিকট বিষয়টি জানায়।
ঘটনাটি কোভিড-১৯ চলাকালীন সময়ে হওয়ায় ও কোট বন্ধ থাকায় সন্তান উদ্ধারের বিষয়ে সহযোগিতার জন্য  প্রথমে ভিকটিম শিল্পিকে নিয়ে কর্মরত এইচআরএলএস অফিসার দৌলতপুর থানায়  যায় ও  বিকাশ চন্দ্রশিল ডিওটি অফিসারকে বিষয়টি অবগত করেন। ঘটনাস্থল যেহেতু শিবালয় উপজেলায় তাই ডিওটি অফিসার শিবালয় থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে বলেন।
কিন্তু ভিকটিম শিল্পি জানায় সে কখনও শিবালয় থানায় যান নি এবং সেখানে কার নিকটে গিয়ে সমস্যার কথা বলবেন তা বুঝতে না পেরে কর্মরত এইচআরএলএস অফিসারকে তার সাথে যেতে বলেন। ফলে শিবালয় উপজেলায় কর্মরত এইচআরএলএস অফিসারকে এই বিষয়ে  জানালে তিনি থানায় গিয়ে সহযোগিতা করবেন জানিয়ে ভিকটিম শিল্পিকে আসতে বলেন।

এরপর গত ২৯ জুন ভিকটিম শিল্পি শিবালয় থানায় গিয়ে এইচআরএলএসঅফিসার  মো. কফিল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি থানায় উপস্থিত হয়ে ডিওটি অফিসারের নিকটে নিয়ে যান ও অফিসার সন্তান উদ্ধারের বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তীতে থানা থেকে পুলিশ তার স্বামী শাহাদাতের নিকট থেকে সন্তান উদ্ধার করে ভিকটিম শিল্পির কোলে তুলে দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানতে পারি পুলিশ ফোর্স তার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে বাচ্চা উদ্ধার করে ভিকটিম শিল্পির কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে বাচ্চা মায়ের কাছে ভালো আছে। ভিকটিম শিল্পি বলেন ব্র্যাক আইন সহায়তা কর্মসূচির এইচআরএলস অফিসার কফিল উদ্দিন এবং মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যাবস্থাপক মির্জা কাশ্ফি নাজ ম্যাডামসহ অন্যান্যদের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া আমি প্রশাসনের মাধ্যমে সন্তান উদ্ধার করতে পারতাম না।  (ব্র্যাক কেস স্টাডি)