শিবালয়ে যমুনায় ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ ৪

শহিদুল ইসলাম ॥
যমুনা বক্ষে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটের মঙ্গলবার সকালে আলোকদিয়া এলাকায় পণ্যবাহী কার্গো ও যাত্রীবাহী ট্রলারের সংঘর্ষে দু’শিশুসহ ৪ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে।
এ রিপোট লেখা পর্যন্ত দমকল বাহিনী উদ্ধার অভিযান অব্যাহর রয়েছে। নিখোঁজ ৪ জনের মধ্যে ৩ জনের নাম পাওয়া জানা গেছে। এরা হচ্ছেন পাবনা আতাইকুলার নুরু বক্স (৪৫), সুজানগর উপজেলার রামনগর গ্রামের খোকন শেখের পুত্র মাসুম (২৫) ও নাজিরগঞ্জের নয়া গ্রামের মকুলের শিশুকন্যা মেঘলা (৬)। উর্দ্ধত্বন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধার হওয়া কয়েকজন যাত্রী জানান, পাবনার কাজিরহাট থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা আরিচা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া এলাকায় এসে এমবি প্রিমিয়ার-১১ নামে পণ্যবাহী কার্গোর সাথে মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে যাত্রীবাহী নৌকা দুমরেমুচরে নদীতে নিম্মজিত হয়। ডুবে যাওয়া যাত্রীরা কেউ-কেউ সাঁতরে পাড়ে উঠে।
স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে সহায়তা করে। যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি ছিল বলে জানা গেছে। এতে নারী-শিশুসহ অর্ধশত আহত হয়। তবে, দুর্ঘটনায় নিখোঁজের সংখ্যা আরোও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ দমকল বাহিনীর ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। ডুবে যাওয়া ট্রলার ও নিঁেখাজদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া দমকল বাহিনীর মানিকগঞ্জ উপ-সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, উদ্ধার কাজে স্থানীয় ৩টি ইউনিট কাজ করছে। উদ্ধার কাজ তড়ান্বিত করার জন্য ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দল খবর দেয়া হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা অঞ্চলের পোর্ট অফিসার সেলিম রেজা জানান, এ রুটে ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচলের কোন বৈধতা না থাকলেও স্থানীয়রা জোড় পূর্বকভাবে চলাচল করে। এ সকল অবৈধ নৌযান চলাচল বন্ধে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে একাধিকবার চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম সাংবাদিকদের জানান, কার্গো আটক করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের পক্রিয়া চলছে।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক শরিফ মোহাম্মদ ফেরদৌস জানান, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনসহ অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে।