শিবালয়ে সিসিডিবির ‘কৃষি বন্ধু চুলা’ বিতরণ

মানিকগঞ্জ টাইমস রিপোর্ট

খ্রীষ্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ-সিসিডিবি’র বায়োচার প্রকল্পের অধীনে কৃষি বন্ধু চুলা বিতরণ করা হয়েছে। শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা ২৯ জুন উলাইল গ্রামের সাজাহান মিয়ার বাড়ির উঠানে প্রকল্পের কর্ম এলাকার গৃহিণীদের মাঝে ”কৃষি বন্ধু চুলা” বিতরণ করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রিয়াজুর রহমান, উলাইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান, দি ডেইলী নিউ নেশন’র মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুস আলী, উলাইল ইউপি সদস্য মিসেস সেলিনা আক্তার অনুষ্ঠানে। উপকারী ভোগী সদস্যবৃন্দ, সাংবাদিক মোঃ মারুফ হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সিসিডিবি বায়োচার প্রকল্পের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, বায়োচার তৈরীর নতুন প্রযুক্তি ‘কৃষি বন্ধু চুলা’য় স্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রান্না, জ্বালানী ও সময় স্বাশ্রয়, অগ্নি দূর্ঘটনা ও বায়ু দুষন রোধ, কার্বন নিঃস্বরন কমানো এবং উৎপাদিত বায়োচার ব্যবহার করে জমির উর্বরা শক্তি, অনুজীব বৃদ্ধি, লবনাক্ততা হ্রাস এবং পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ভূমিকা রাখেন বলে মনে করেন কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

কৃষি বন্ধু চুলা’ থেকে যে বায়োচার উৎপাদিত হবে তা বিক্রি করে ব্যবহারকরীর পরিবারের আর্থিক উন্নয়ন হবে এবং বায়োচার জমিতে ব্যবহারের ফলে মাটির উন্নয়নের পাশাপাশি ফসল বৃদ্ধি পাবে। মানিকগঞ্জে সিসিডিবি বায়োচার প্রকল্পের কর্ম এলাকায় ”কৃষি বন্ধু চুলা” ও বায়োচার ব্যবহার নিয়ে কৃষক কৃষানীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনাও লক্ষ্য করা যায়।

এ সময় কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রিয়াজুর রহমান বলেন ‘কৃষি বন্ধু চুলায়’ রান্না করে নানাবিধ উপকার পাওয়া যায়। অতিরিক্ত বাই প্রোডাক্ট হিসেবে যে বায়োচার পাওয়া যায় তা বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। বায়োচার মাটিতে ব্যবহার করলে মাটির কার্বন বা জৈব উৎপাদান বৃদ্ধি পায়, লবনাক্ততা হ্রাস করে, পানি ধারন ক্ষমতা বাড়ে, রাসায়নিক সারের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয় ফলে কম সার ব্যবহার করেও আশানুরুপ ফসল পাওয়া যায়, পুষ্টি উৎপাদান ধরে রাখে, মাটির বিষাক্ত পদার্থ ফসলে আসতে দেয় না, মাটিতে অবস্থানকারী অনুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। বায়োচার ব্যবহার বৃদ্ধি জন্য সিসিডিবির কৃষি বন্ধু চুলা বাজারজাতকরণ খুব দরকার। কৃষি বন্ধু চুলার ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে বেশি বায়োচার উৎপাদন হবে ও তা কৃষি জমিতে ব্যবহার করা যাবে। বায়োচার ব্যবহার করে কৃষকগণ বেশী ফসল পাবেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

প্রধান অতিথি শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন সিসিডিবি’র উদ্যোগে কৃষি বন্ধু চুলা উৎপাদন ও বিতরণ কার্যক্রম একটি সময় উপযোগি পদক্ষেপ। এ চুলায় যেহেতু বার বার খড়ি ঠেলতে হয় না তাই রান্না বসিয়ে গৃহিণীরা তাদের পরিবারের অন্যান্য কাজগুলি করতে পারে। রান্নার সময় প্রচলিত চুলার তুলনায় শতকরা ৪০ ভাগ খড়ি কম লাগে তাই গাছ কম কাটা পড়ে, ধোঁয়া বায়োচারের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং কার্বন নিঃস্বরন কম হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনে এ ”কৃষি বন্ধু চুলা” গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। এই চুলায় উৎপাদিত বায়োচার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করবেন এবং ফসলের ফলন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রান্নাকালিন সময় মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় (ধোঁয়া না থাকায়) ব্যাপক ভূমিকা রাখবেন বলে সহমত পোষন করেন।

এর আগে সিসিডিবি বায়োচার প্রকল্পের উদ্যোগে উলাইল কর্ম এলাকায় ৬ জন ”কৃষি বন্ধু চুলা” ব্যবহার করতে আগ্রহী এমন গৃহিণীদের নিয়ে কৃষি বন্ধু চুলা” স্থাপন বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মাঝে চুলা বিতরন করা হয়। প্রশিক্ষণ সঞ্চালনায় ছিলেন সিসিডিবি বায়োচার প্রজেক্ট মার্কেটিং অফিসার মোঃ আবু সুফিয়ান।

এ প্রসঙ্গে সিসিডিবির বায়োচার প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর সমীরন বিশ্বাস বলেন, বায়োচার এক ধরনের চার বা কয়লা যার মধ্যে শতকরা ৩০-৫৫ ভাগ কার্বন থাকে। এ কয়লা এক ধরনের চুলা (কৃষি বন্ধু চুলা) ৩০-৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় স্বল্প অক্সিজেনের উপস্থিতিতে এবং পাইরোলাইসিস পদ্ধতিতে বায়োমাস (কাঠ, খড়-কুটা এবং কৃষি বজ্য) পুড়িয়ে বায়োচার তৈরী করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সিসিডিবি’র বায়োচার প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ে বায়োচার ব্যবহারকারী কৃষকের জমিতে ডেমো স্থাপন, বায়োচারের কার্যকারিতা পরীক্ষণ ও বায়োচার ব্যবহার এবং গবেষনা কাজের সাথে বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট, পাট গবেষনা ইনস্টিটিউট, হাজী দানেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পৃক্ত রয়েছেন।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থা ICCO এবং Kerk in actie এর আর্থিক সহায়তা ও কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর এর সহযোগিতায় সিসিডিবি মাঠ পর্যায়ে বায়োচর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করছে। বায়োচার প্রকল্পের শিবালয় কর্ম এলাকায় ১২০টি পরিবার ‘কৃষি বন্ধু চুলা’ ব্যবহার করছেন এবং চলতি অর্থ বছরে সিসিডিবি বায়োচার প্রল্পের মাধ্যম অত্র শিবালয় কর্ম এলাকায় আরও ২৫০টি পরিবারে এ চুলা স্থাপন করা হবে যা পর্যায়ক্রমে স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। ব্যবহারকারীগণ এ চুলা থেকে উৎপাদিত বায়োচার বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং নিজের জমিতে বায়োচার ও কার্বন সমৃদ্ধ জৈব সার ব্যবহার করে অধিক ফসল ঘরে তুলছেন।