শিবালয়ে সিসিডিবির ‘বায়োচার’ প্রজেক্টের কার্যক্রম পরিদর্শনে ‘কারিতাস পর্যবেক্ষক দল’

মানিকগঞ্জ টাইমস রিপোর্ট ॥

এনজিও কারিতাস’র পর্যবেক্ষকদল ২৮ ফেব্রুয়ারি খ্রীষ্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ-সিসিডিবি’র বায়োচার প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। সিসিডিবি’র বায়োচার প্রকল্পের বায়োচার, কৃষি বন্ধু চুলা, বায়োচার ইনরিচ অর্গানিক ফার্টিলাইজার এবং এদের ব্যবহার ও আয়-ব্যায় ইত্যাদি খতিয়ে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলায় স্থানীয় গৃহিণীদের দ্বারা ‘কৃষি বন্ধু চুলা’য় রান্নার পাশাপাশি উৎপাদিত হচ্ছে বায়োচার। নেদারল্যান্ড ভিত্তিক সাহায্য সংস্থা আইসিসিও এবং কেআইএ’র অর্থায়নে এবং সিসিডিবির বায়োচার প্রকল্পের সহযোগিতায় স্থানীয় উৎসাহী গৃহিণীগন কৃষি বন্ধু চুলা ব্যবহার করে মাটির প্রান মূল্যবান এ বায়োচার উৎপাদন করছেন।

উক্ত বায়োচার বিভিন্ন ফসলে ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছেন অত্র এলাকার কৃষক ও কৃষাণীগণ। তাঁরই ফল স্বরুপ অদ্য ২৮ ফেব্রুয়ারী বে-সরকারী সংস্থা ”কারিতাস” কেন্দ্রীয় অফিসের প্রোগ্রাম অফিসার মিঃ ফানিন্দ্র সাংমা এর নেতৃত্বে একই প্রতিষ্ঠানের ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অফিসের প্রোগ্রাম অফিসার (কৃষি), ফিল্ড অফিসার মিঃ জতিন মূর্মু, জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মিঃ বিপ্লব ঘাগরা সিসিডিবি’র শিবালয় উপজেলার বায়োচার প্রজেক্ট’র কর্যক্রম পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তারা বায়োচার তৈরীর নতুন প্রযুক্তি কৃষি বন্ধু চুলা জ্বালিয়ে দেখা ও বায়োচার বের করার পদ্ধতি, সংগৃহিত বায়োচার, বায়োচার ব্যবহৃত কৃষকের ফসল এবং কৃষি বন্ধু চুলা স্থাপন পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেন।

বায়োচার তৈরীর এই নতুন প্রযুক্তি কৃষি বন্ধু চুলা’য় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রান্না, জ্বালানী ও সময় স্বাশ্রয়, কার্বন নিঃস্বরন কমানো এবং উৎপাদিত বায়োচার ব্যবহার করে জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধিকে সময় উপযোগী সুকৌশল বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকগণ। বাংলাদেশে অদূর ভবিষ্যতে আর কোন প্রচলিত চুলা থাকবে না বলেও মন্তব্য পর্যবেক্ষকদের।

অসাধারণ এই প্রযুক্তি (কৃষি বন্ধু চুলা) উদ্ভাবন করায় পর্যবেক্ষকগণ সিসিডিবিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। কারিতাস এর পর্যবেক্ষণের মধ্যে দিয়ে ‘কৃষি বন্ধু চুলা’, বায়োচার ও ‘বায়োচার ইনরিচ অর্গানিক ফার্টিলাইজার’ শিবালয় এলাকায় মোট ১২০ জন গৃহিণী রান্নার পাশাপাশি বায়োচার উৎপাদন ও বিক্রয় করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এবং শত শত কৃষক ও কৃষাণী উক্ত বায়োচার ব্যবহার করে অধিক ফলন ঘরে তুলছেন। উপজেলার আমডালা গ্রামে বর্তমানে ৪১টি কৃষি বন্ধু চুলা ব্যবহার হচ্ছে এবং এই গ্রামটি অত্র এলাকায় ”বায়োচার ভিলেজ’ নামে স্বীকৃতি লাভ করেছে।