শিবালয় সদর উদ্দিন কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

শিবালয় সদর উদ্দিন কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

মোহাম্মদ ইউনুস আলী

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার সদর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত ফি মওকুফ এবং কলেজের অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে ৭২ ঘণ্টা আলটিমেটাম দিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ।

এ ব্যাপারে বুধবার জেলা প্রশাসক ও শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এমএ সিফাদ কোরাইশী সুমন ও সাধারণ সম্পাদক রাজিদুল ইসলাম।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, শিবালয় সদর উদ্দিন কলেজ কর্তৃপক্ষ এইচএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করেছে ৯৫০০ টাকা। অথচ সমমানের অন্যান্য কলেজ কর্তৃপক্ষ এ ফি নির্ধারণ করেছে ৩৪০০ টাকা। করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে গ্রামীণ জনপদের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় এ কলেজের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত টাকা দেওয়া অসম্ভব। এমনকি আর্থিক সংকটে অনেকের শিক্ষাজীবন হুমকির সম্মুখীন। এ কারণে শিক্ষার্থীদের এই অতিরিক্ত ফি মওকুফ করতে হবে। কেননা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মানিকগঞ্জ জেলা শাখা সব সময় শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি সমর্থন করে।

এর আগে বুধবার কলেজে বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতারা। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এমএ সিফাদ কোরায়েশী ও সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলামসহ জেলার জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নেতারা অতিরিক্ত ফি কমানোসহ কলেজের অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে ৭২ ঘণ্টা আলটিমেটাম দেন।

শিবালয় সদর উদ্দিন কলেজ অধ্যক্ষ ড. বাসুদেব কুমার দে শিকদার বলেন, “ সরকারী নিদের্শনা অনুসারে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ২৪ মাসের বেতন ৬০০০ টাকা, সেশন ২০০০ টাকা ও বোর্ড ফিসহ মোট ৯১৬০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। যেসকল ছাত্র-ছাত্রী উপবৃত্তি পায় তাদের নিকট থেকে শুরু সেশন ও বোর্ড ফি আদায় করা হচ্ছে। নিমানুসারে দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে কম টাকা আদায় করা হচ্ছে।
যেসকল ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন বেশি বকেয়া রয়েছে তাদের ৬ মাসের বেতন ১৫০০ টাকা আগেই কমানো হয়েছে। তার পরও যাদের বেতন বেশি বকেয়া রয়েছে তাদের সেশন ৫শ টাকা ২৫ তারিখে কমানো হয়েছে। জেলার অন্যান্য বেসরকারী কলেজে ২৪মাসের বেতন আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া, সরকারী নিদের্শনার বাহিরে কোন টাকা না নেয়ার জন্য কলেজ গভর্নিং বোডির সভাপতি ও শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে তা প্রমাণিত হলেই কাওকে অপসারণ করা যায়। অতিরিক্ত টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “টাকা কমিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।