সাটুরিয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন সাংবাদিক মতিউর রহমানের পরিবার

মানিকগঞ্জ টাইমস রিপোর্ট

বাড়ি নির্মাণের জন্য ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে বাড়ির মালিক দৈনিক মানবজমিনের সাটুরিয়া প্রতিনিধি মতিউর রহমানকে পিটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও হত্যার হুমকি দেয় তারা। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা করা করেছে ভূক্তভোগীর পরিবার। এর পরও হুমকি থামছে না।

ঘটনাটি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সাটুরিয়া বাজারের। এ ঘটনার পর থেকে সাংবাদিক মতিউর রহমান ও তার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী মতিউর রহমান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাটুরিয়া বাজারে নিজ জমিতে সাংবাদিক মতিউর রহমান একটি ৫ তলা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। বর্তমানে দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ করতে গেলে স্থানীয় হাবিবুল হক, সাইফুল ইসলাম, মহর আলী ও আলেকসহ আরও কয়েকজন মতিউর রহমানের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেয়াসহ প্রাণনাশের হুমকিও দিয়ে আসছে।

সাংবাদিক মতিউর রহমান চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১২ই জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে নির্মাণাধীন ভবনে এসে মতিউর রহমানকে মারধর করে। এক পর্যায়ে তারা মতিউর রহমানের গলায় গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় মতিউর রহমানের দোকানের ক্যাস বাক্স ভেঙে তারা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে চাঁদাবাজরা মতিউর রহমানকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

সাংবাদিক মতিউর রহমান বলেন, ঘটনার পর সাটুরিয়া থানায় আমি লিখিত অভিযোগ করি। পরে সন্ত্রাসী হাবিবুল হকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি চাঁদাবাজির মামলা করি। মামলা করার পর সন্ত্রাসীরা নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

সে আরও বলেন, হাবিবুল হক সাটুরিয়া বাজারে প্রভাব বিস্তার করতে অলিগলিতে নিজস্ব সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষজনকে হয়রানি করে আসছে।

সাটুরিয়া বাজার কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, হাবিবুর রহমান খারাপ প্রকৃতির মানুষ। নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে এলাকার মানুষজনকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। এ ছাড়া সে নিজেকে নরওয়ের সিটির কাউন্সিলর দাবি করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। সাংবাদিক মতিউর রহমানের সঙ্গেও প্রভাব খাটিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।

মামলার আসামি হাবিবুল হক সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়। এ ব্যাপারে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, বিষয়টি জমিজমা সংক্রান্ত। এ নিয়ে মতিউর রহমান থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।