২০৩০ সালে খাদ্য শস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা উন্নীত হবে ৩৫ লাখ মেট্রিক টনে – খাদ্যমন্ত্রী

২০৩০ সালে খাদ্য শস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা উন্নীত হবে ৩৫ লাখ মেট্রিক টনে – খাদ্যমন্ত্রী

মোহাম্মদ ইউনুস আলী

 খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে আগামী ছয় মাসের মধ্য স্মার্ট কার্ড প্রবর্তন করা হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে খাদ্য সহায়তা বিতরণে আরও সচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার ২ শত পেডি সাইলো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষকের ভেজা ধান সংগ্রহ করে এখানে প্রক্রিয়াকরণ হবে। কৃষকের নায্য মূল্য নিশ্চিত হবে। সম্প্রতি একনেকে ৩০ টি সাইলো নির্মাণের অনুমতি পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্য শস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে।

মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) মানিকগঞ্জের শিবালয়ে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত দরিদ্র,অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগােষ্ঠী এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনগষ্ঠেীর নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণের জন্য হাউজহোল্ড সাইলো সরবরাহ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের মধ্যে হাউজহোল সাইলো বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে নাঈমুর রহমান দুর্জয় এমপি, মমতাজ বেগম এমপি, খাদ্য মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব খোরশেদ ইকবাল রেজভী, মহা-পরিচালক শেখ মুজিবর রহমান, মানিকগঞ্জ এসপি গোলাম আজাদ খাঁন, এএসপি তানিয়া সুলতানা, শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান খান, ইউএনও জেসমিন সুলতানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মন্ত্রী বলেন, বিএনপি পদ্মা সেতু নির্মাণের বিরোধীতা করে বলেছিল এ সরকার তা করতে পারবে না। কিন্তু পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে। করোনায় খাদ্যের অভাবে এ পর্যন্ত একজন লোকও মারা যায়নি। অথচ তারা বলেছিল করোনায় ২ লক্ষ লোক মারা যাবে। বর্তমানে গ্রাম-গঞ্জের মা-বোনেরা ‘ফেয়ার এন্ড লাভলী’ মাখে। এটাই এ সরকারের উন্নয়ন। আগে লোকজন খালি গায়ে ও খালি পায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আসতো। আর এখন ভালো-ভালো পোশাক পড়ে আসে। এটাই হচ্ছে উন্নয়ন। বিএনপি আমলে পুলিশের গুলিতে নিহত সার নিতে আসা কৃষকদের শ্রদ্ধা জানাই। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে সফলভাবে করোনা মোকাবিলা করা হয়েছে। দেশে খাদ্য সংকট হয়নি- কেউ না খেয়ে মারা যায়নি।

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নের সুফলভোগী সকলেই। এমন কোন সেক্টর নাই যেখানে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ছৌঁয়া লাগেনি। অথচ বিএনপি শেখ হাসিনার উন্নয়ন দেখতে পায়না। এসময় তিনি নেতা কর্মীদের শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও শান্তির শাশ্বত বাণী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার আহবান জানান। উল্লেখ্য,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ প্রকল্পের আওতায় দেশের আট বিভাগে ২৩ জেলার ৫৫টি উপজেলায় ৩ লাখ পারিবারিক সাইলো বিতরণ করা হবে। মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি উপজেলায় ১৩ হাজার পিস পারিবারিক সাইলো পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। এরমধ্যে শিবালয়ে ৫ হাজার পিস, দৌলতপুরে ৪ হাজার পিস এবং হরিরামপুর উপজেলায় ৪ হাজার পিস পারিবারিক সাইলো বিতরণ করা হবে। দূর্যোগকালে প্রতিটি পারিবারিক সাইলাতে ৪০ কেজি ধান অথবা ৫৬ কেজি চাল অথবা ৭০ লিটার পানি সংরক্ষণ করা যাবে।