শিবালয়ে মিরপুর ট্র্যাজেডি দিবস ১০ ডিসেম্বর

শহিদুল ইসলাম ॥
‘৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের মাত্র ছয় দিন আগে মুক্তি বাহিনীর অন্যতম ঘাঁটি শিবালয় উপজেলার মিরপুর গ্রামে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা অর্ধশত বাড়ি-ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এদের ছোড়া পেট্রোল বোমা ও গুলিতে বৃদ্ধ কোঁকারাম মন্ডল ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। এছাড়া, নারী-শিশুসহ অনেকেই আহত হন।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক কমান্ডার মনসুর আলীর নেতৃত্বে একদল মুক্তিবাহিনী মিরপুর গ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরিচা ঘাটে অবস্থানরত পাকবাহিনী ও দোসরদের ক্যাম্পে আক্রমনের প্রস্ততি নেয়। এমন খবরে পাকসেনা ও দোসররা মিরপুর গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক উথলী ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেনের বাড়িসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের বহু বাড়ি-ঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেয়। আগুন দিয়ে ফেরার পথে পাকসেনাদের গুলি ও বর্বচিত হামলায় বৃদ্ধ কোঁকারাম মারা যান।

এ গ্রামের বাসিন্দা বীরমুক্তিযোদ্ধা মহীউদ্দীন জানান, মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার প্রবল প্রতিরোধের মুখে পাকসেনা ও রাজাকাররা সেদিন পিচু হটলে গোটা এলাকা হানাদার মুক্ত হয়। এ ঘটনা স্মরণে ‘মিরপুর ট্র্যাজেডি’ দিবস হিসেবে এলাকাবাসী নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।
এ উপলক্ষে রবিবার ১০ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় মিরপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মোল্লাবাড়ি আঙ্গিনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয় এমপি। উদ্বোধন করবেন মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আ’লীগ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহীউদ্দীন।